ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বমানের তারকায় ভরা ইংল্যান্ড। বিপরীতে স্পেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তাই ওয়েম্বলিতে উয়েফা নেশনস লিগের ইংল্যান্ড-স্পেন ম্যাচটি ঘিরে ছিল বড় লড়াইয়ের প্রত্যাশা। ম্যাচে লড়াইও হয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরেছে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের ফল নির্ধারণে ইংল্যান্ডের কয়েকটি ভুল বড় ভূমিকা রেখেছে। আর সেই ভুলগুলোর সূত্র ধরে আলোচনায় এসেছে ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক মামলার রায়।
ইংল্যান্ডের হারের আগের দিনই খবর আসে, প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অধিকাংশ অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। শাস্তি এখনো ঘোষণা হয়নি। তবে এই খবর ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা সিটির ফুটবলারদের মানসিকতায় কোনো প্রভাব ফেলেছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সিটির খেলোয়াড়দের ভুল
ইংল্যান্ডের শুরুর একাদশে ম্যানচেস্টার সিটির তিন খেলোয়াড় ছিলেন—এলিয়ট অ্যান্ডারসন, মার্ক গুয়েহি ও নিকো ও’রাইলি। স্পেনের একাদশে ছিলেন সিটির সাবেক মিডফিল্ডার রদ্রি।
ম্যাচের শুরুতেই গুয়েহির ভুল থেকে গোল পায় স্পেন। দ্বিতীয় মিনিটে তাঁকে ট্যাকল করে বল কেড়ে নিয়ে গোল করেন লামিনে ইয়ামাল।
দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড পেনাল্টি পেলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি অধিনায়ক হ্যারি কেইন। সেই পেনাল্টিটি আদায় করা হয়েছিল জুড বেলিংহামকে রদ্রির করা চ্যালেঞ্জের পর।
এরপর নিকো ও’রাইলির নিজেদের অর্ধে দেওয়া একটি পাস প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের কাছে চলে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অ্যালেক্স বায়েনা স্পেনকে আবার সমতায় ফেরান। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে ম্যাচ জেতে স্পেন।
সিটির রায়ের প্রভাব পড়েছিল কি?
ইংল্যান্ডের এক ম্যাচে এমন একাধিক ভুলের পর প্রশ্ন উঠেছে, আগের দিনের ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক মামলার রায়ের খবর খেলোয়াড়দের মনোযোগে কোনো প্রভাব ফেলেছিল কি না।
সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক রয় কিনের ধারণা, এমন প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আইটিভি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে খেলোয়াড়দের পুরোপুরি মনোযোগী থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের ওপর রায়ের খবর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মত দেন তিনি।
তবে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল সরাসরি এমন কোনো প্রভাবের কথা বলেননি। তাঁর ভাষায়, ‘আমার ক্ষেত্রে বিষয়টি কোনো বিভ্রান্তি তৈরি করেনি। তবে আমার চেয়ে খেলোয়াড়দের হাতে বেশি সময় ছিল, তাই তারা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলে থাকতেই পারে।’
অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ব্যাখ্যাও ভিন্ন। তাঁর মতে, সিটির রায়ের বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা হলেও ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে নামার সময় খেলোয়াড়েরা ক্লাব ফুটবলকে এক পাশে রেখে দেন।
কেইন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে নামার পর আমরা ক্লাব ফুটবলকে এক পাশে রেখে দিই। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।’
ম্যানচেস্টার সিটির মামলায় কী হয়েছে?
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতে ম্যানচেস্টার সিটিকে দায়ী করা হয়েছে। তবে ক্লাবটির বিরুদ্ধে কী শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনো ঘোষণা হয়নি। সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
অভিযোগগুলোর সময়কাল ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত। ওই সময়ে ম্যানচেস্টার সিটি তিনবার প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছিল।
তবে সিটির মামলার রায়ের খবর এবং ইংল্যান্ডের ম্যাচে ফুটবলারদের ভুলের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল—এমন প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। ফলে বিষয়টি আপাতত আলোচনা ও অনুমানের পর্যায়েই রয়েছে।