ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ফান্ড ঘিরে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। দেশটির পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ১৩১টি বিনিয়োগ ফান্ডের লিকুইডেশন বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এসব ফান্ডের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলার এবং এতে ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বিনিয়োগকারী যুক্ত রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু ফান্ডে তুলনামূলক কম লেনদেন হওয়া শেয়ারের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে ফান্ডের সম্পদের মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা কয়েকটি ফান্ড বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার চাপের মুখে পড়ার পর সংকট আরও তীব্র হয়।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও চাপ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন একে পার্টির উপপ্রধান ও সাবেক মন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়া শেয়ার লেনদেন নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর পদত্যাগ করেছেন। বিরোধী দলের এক নেতার অভিযোগ, বাজারে বড় ধরনের পতনের আগে কায়া ও তাঁর স্বামী সংশ্লিষ্ট কিছু শেয়ার বিক্রি করে বড় অঙ্কের মুনাফা করেছিলেন। কায়া অভিযোগের নির্দিষ্ট বিষয়গুলোর জবাব না দিয়ে তদন্তের সুযোগ করে দিতে পদ ছাড়ার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে তদন্তের অংশ হিসেবে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ। ফান্ড কেলেঙ্কারির কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, অপরাধী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও পুঁজিবাজার আইন লঙ্ঘনের মতো অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।
সংকট সামাল দিতে সরকার ফান্ডগুলোর অবসায়ন প্রক্রিয়া তদারকির জন্য বিশেষ সমন্বয় কাউন্সিলও গঠন করেছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও দ্রুত অবসায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই এর অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানও সংকটের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তদন্তে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা জানিয়েছে সরকার। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত তাঁদের কতটা অর্থ ফেরত পাবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়; অবসায়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।