ইসরায়েল নির্বাচনে রেকর্ড আরব ভোট, ১৯ আসন পেতে পারে আরব দলগুলো

Pinky Saha Pinky Saha ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৩৩ PM BST ১ বার পঠিত
ইসরায়েল নির্বাচনে রেকর্ড আরব ভোট, ১৯ আসন পেতে পারে আরব দলগুলো

Photo Collected

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের পর বুথফেরত জরিপে দেশটির আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার আভাস পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটের পর প্রকাশিত বিভিন্ন বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, আরবদের নেতৃত্বাধীন দলগুলো মিলিয়ে প্রায় ১৯টি আসন পেতে পারে। একই সঙ্গে এবারের নির্বাচনে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের ভোট দেওয়ার হারও কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর বুথফেরত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যে এবার ভোট দেওয়ার হার প্রায় ৮০ শতাংশ। এই হার ১৯৯৯ সালের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। ফলে নির্বাচনের ফল নির্ধারণে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বুথফেরত জরিপে আরবদের নেতৃত্বাধীন প্রধান রাজনৈতিক দল ‘জয়েন্ট লিস্ট’ এবং ‘রাআম’ বা ইউনাইটেড আরব লিস্ট উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বুথফেরত জরিপ চূড়ান্ত ফল নয়। প্রকৃত ফল প্রকাশের পর দলগুলোর আসনসংখ্যায় পরিবর্তন হতে পারে।

রাআমের নেতা মনসুর আব্বাস নির্বাচনের ফল নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি আশা করছেন, চূড়ান্ত ফলাফলে তাঁর দলসহ নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পেতে পারে। তাঁর দল বর্তমানে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে পাঁচটি আসন ধরে রেখেছে।

মনসুর আব্বাসের রাজনৈতিক ভূমিকা এবার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলে যে জোট সরকার ক্ষমতায় ছিল, রাআম সেই জোটের অংশ ছিল। আব্বাসের ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচন সামনে রেখে এবং ভোটের পরও ইসরায়েলের প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট তাঁর দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

এদিকে নির্বাচনে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য সাফল্য নিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার গঠনের জন্য কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ছোট দলগুলোর পাশাপাশি আরব দলগুলোর সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে নেসেটে ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলে সরকার গঠনের সমীকরণ আরও জটিল হতে পারে।

ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিঙ্কাস আরব দলগুলোকে রাজনৈতিকভাবে বাইরে রাখার প্রচেষ্টার সমালোচনা করেছেন। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় শুধু প্রয়োজনের মুহূর্তে আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়া এবং অন্য সময় তাদের জোটের বাইরে রাখার রাজনীতি আর চলতে পারে না। তাঁর মতে, ইসরায়েলের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আরবদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারের সময় অবশ্য কয়েকটি দল আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠন করবে না বলে অবস্থান জানিয়েছিল। ফলে ভোটের ফল ঘোষণার পর সরকার গঠনের আলোচনায় সেই অবস্থান কতটা বজায় থাকে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, ভোটের দিন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নেতানিয়াহু ও তাঁর কট্টর ডানপন্থী জোট নিজেদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের ভোটার উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও তাদের পক্ষ থেকে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়।

আরব রাজনীতিকেরা এই ধরনের বক্তব্যের নিন্দা করে একে বর্ণবাদী ও উসকানিমূলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, আরব নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অধিকারও ইসরায়েলের অন্যান্য নাগরিকদের মতোই সমান।

সব মিলিয়ে এবারের ইসরায়েলি নির্বাচনে আরব ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং আরব দলগুলোর সম্ভাব্য ১৯টি আসন পাওয়া সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ এবং বিভিন্ন দলের জোট গঠনের আলোচনা শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে, নেসেটে কোন সমীকরণে সরকার গঠনের পথ তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: