Photo Collected
ইয়েমেনের অবরুদ্ধ তাইজ শহরে তীব্র জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, একটি হাসপাতালে নবজাতকদের জন্য ব্যবহৃত ইনকিউবেটরের সংখ্যা ৪০টি থেকে কমিয়ে মাত্র ১০টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে অকালজাত ও অসুস্থ শিশুদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি অক্সিজেন, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইজের ইয়েমেনি-সুইডিশ হাসপাতালের নবজাতক পরিচর্যা বিভাগে জ্বালানির অভাবে ইনকিউবেটর চালানো ও শিশুদের শরীর উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বিভাগের নার্স নাদা আহমেদ জানিয়েছেন, অক্সিজেন ও জ্বালানির সংকটে নবজাতকদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভাগটির তত্ত্বাবধায়ক নওয়াল নাজিব সতর্ক করেছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে নবজাতকদের মৃত্যু ও স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকি বাড়বে।
গত ৩ অক্টোবর থেকে সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতি আন্দোলনের মধ্যে সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় তাইজ শহরটি অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ বন্ধ থাকায় খাদ্য, পানি ও জ্বালানির সংকট তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে বাস্তুচ্যুত আড়াই লাখ মানুষের প্রায় অর্ধেক তাইজ শহরে আশ্রয় নিয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শহরটির ৪২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জ্বালানি, অক্সিজেন, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই পরিস্থিতি আদেন ও লাহিজ প্রদেশের হাসপাতালগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং অস্ত্রোপচারকক্ষ ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি খাদ্যাভাব ও অপুষ্টিও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, তাইজ ও আশপাশের এলাকায় আট লাখের বেশি মানুষ খাদ্যসহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ইউনিসেফ জানিয়েছে, চলতি বছরে তাইজে পরীক্ষা করা এক লাখ ৬৮ হাজার শিশুর মধ্যে ৫২ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। তাদের মধ্যে ১১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি শিশু গুরুতর তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত।
ইউনিসেফ জীবনরক্ষাকারী বিশেষ পুষ্টিকর খাবার মজুত করলেও নিরাপত্তাহীনতা ও চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে সেগুলো প্রয়োজনীয় শিশুদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, আদেন ও লাহিজে পরীক্ষা করা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত।
সব মিলিয়ে, ইয়েমেনের তাইজ শহরে সংঘাত, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি ও খাদ্যসংকট এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। বিশেষ করে নবজাতক ও অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জীবন রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি, অক্সিজেন, ওষুধ, খাদ্য ও চিকিৎসাসহায়তা পৌঁছানো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।