সংগৃহীত ছবি
চীনে কর্মক্ষম মানুষের ওপর নির্ভরশীল প্রবীণের সংখ্যা এবারই প্রথম শিশুদের ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কর্মক্ষম জনসংখ্যার তুলনায় নির্ভরশীল প্রবীণের অনুপাত বেড়ে ২৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২২ শতাংশ।
চীনে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২২ কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশ। বিপরীতে, ১৪ বছর বা তার কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ২১ কোটি ৩০ লাখ। জনসংখ্যার এই পরিবর্তন দেশটির পরিবার, পেনশন ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রবীণ জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় পেনশন, চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ব্যয় বাড়বে। একই সঙ্গে প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, পরিচর্যা ও অন্যান্য পণ্য-সেবার বাজার সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
চীনের দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা জনসংখ্যার পেছনে কম জন্মহার, নগরায়ণ ও মানুষের গড় আয়ু বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের এক সন্তান নীতির প্রভাব রয়েছে। ১৯৮০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই নীতি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখলেও পরবর্তী সময়ে বিধিনিষেধ শিথিল করার পরও জন্মহার বাড়াতে পারেনি বেইজিং। জীবনযাত্রার ব্যয়, পরিবর্তিত সামাজিক ভূমিকা ও শিক্ষার প্রসারও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
প্রবীণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চীন সরকার সামাজিক নিরাপত্তা ও বয়স্কদের সহায়তায় গুরুত্ব বাড়াচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি প্রবীণ নাগরিক ভাতা ও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা পাচ্ছিলেন। জনসংখ্যার এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে চীনের অর্থনীতি, সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।