ভেনিসে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেল গাজা নিয়ে তথ্যচিত্র ‘নাজা’

Pinky Saha Pinky Saha ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:১৬ PM BST ২৭ বার পঠিত
ভেনিসে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেল গাজা নিয়ে তথ্যচিত্র ‘নাজা’

ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ এবং যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছে। ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোরের নির্মিত ৮০ মিনিটের এই তথ্যচিত্রটি উৎসব শুরুর পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।

১০ সেপ্টেম্বর ভেনিসে ‘নাজা’র প্রিমিয়ারের পর দর্শকেরা প্রায় ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে করতালি দেন। এটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ইতিহাসে দীর্ঘতম রেকর্ড করা স্ট্যান্ডিং ওভেশন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে রেকর্ডটি ছিল ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’-এর দখলে, যে ছবিটি প্রায় ২৩ মিনিটের অভ্যর্থনা পেয়েছিল।

প্রিমিয়ারে দুই নির্মাতাকে ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেক দর্শকের হাতে ছিল ফিলিস্তিনি পতাকা। ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক ও অস্কারজয়ী নির্মাতা জোনাথন গ্লেজারও প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন।

পুরস্কার গ্রহণের সময় আবেগঘন বক্তব্য দেন ইউভাল আব্রাহাম। তিনি বলেন, ছবিটি না দেখেই ইসরায়েলের কিছু রাজনীতিক ও সাংবাদিক এর বিরুদ্ধে আক্রমণ করছেন এবং এর বক্তব্য অস্বীকার করছেন। তাঁর ভাষ্য, বাস্তবতার দিকে না তাকানোর জন্য নানা ধরনের চেষ্টা চলছে।

আব্রাহাম আরও দাবি করেন, ‘নাজা’তে যেসব সাক্ষ্য ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ছবিটি মুক্তির পরদিন তা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।

ছবিতে সাক্ষাৎকার দেওয়া হয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগের ২৪ জন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, সেনা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের। নিরাপত্তার কারণে তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে নির্মিত ছবিটিতে সাক্ষাৎকারগুলো ধারণ করা হয় গোপনে। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুখ ও কণ্ঠ ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে।

‘নাজা’র অন্যতম আলোচিত বিষয় এআই-সহায়িত লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থা। ছবিতে ‘ল্যাভেন্ডার’ নামে একটি এআইনির্ভর ব্যবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সাক্ষাৎকারদাতাদের দাবি, গাজার টেলিযোগাযোগ ও নজরদারি থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করতে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাতারা দেখাতে চেয়েছেন, প্রযুক্তির সহায়তায় কীভাবে বিপুলসংখ্যক লক্ষ্য দ্রুত শনাক্ত করে সামরিক অভিযানের আওতায় আনা সম্ভব হতে পারে।

ছবির নাম ‘নাজা’ও ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত একটি ধারণা থেকে নেওয়া হয়েছে বলে নির্মাতারা জানিয়েছেন। ছবিতে দাবি করা হয়েছে, শব্দটি কোনো বিমান হামলায় সম্ভাব্য বেসামরিক প্রাণহানির সংখ্যা বোঝানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ হামলার সরাসরি লক্ষ্য না হলেও যেসব বেসামরিক মানুষ মারা যেতে পারেন, তাঁদের সম্ভাব্য সংখ্যা হিসাবের মধ্যে রাখার ধারণাটিকে ছবির গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

আব্রাহাম পুরস্কার গ্রহণের বক্তব্যে গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও সাংবাদিকদের নিহত হওয়ার বিষয়ও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি সাংবাদিকেরা দীর্ঘদিন ধরে গাজার পরিস্থিতি বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলিদের ‘নাজা’ দেখার আহ্বান জানান তিনি। ইতালি, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকদেরও ছবিটি দেখার অনুরোধ করেন নির্মাতা।

ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোর এর আগে অস্কারজয়ী তথ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’-এর সহনির্মাতা হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান। পশ্চিম তীরের মাসাফের ইয়াত্তায় ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদ ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিষয় উঠে এসেছিল সেই ছবিতে। ‘নাজা’তেও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে কেন্দ্র করে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে, তবে এবার যুদ্ধ পরিচালনার ব্যবস্থার অভ্যন্তরের ব্যক্তিদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভেনিস উৎসবে পুরস্কার পাওয়ার আগেই ‘নাজা’কে ঘিরে গোল্ডেন লায়ন জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ পুরস্কারটি পেয়েছে মে এল-তুখির ‘ওম্যান আননোন’। গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার পেয়েছে ‘পসিবল লাভ’, আর বিশেষ জুরি পুরস্কার উঠেছে ‘নাজা’র হাতে।

ভেনিসের পর ‘নাজা’র প্রদর্শনী হবে স্পেনের সান সেবাস্তিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে ২৩ সেপ্টেম্বর এবং নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবে ২৬ সেপ্টেম্বর। ছবিটির আন্তর্জাতিক বিক্রয়স্বত্ব দেখছে ফরাসি প্রতিষ্ঠান এমকে২ ফিল্মস।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: