Photo Collected
ওয়ানডে ক্রিকেটে বিরাট কোহলির ব্যাটিং নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড তাঁর দখলে। এবার সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছেন ভারতের এই তারকা ব্যাটার।
তবে নিজেকে নিয়ে এত সাফল্য থাকলেও ‘আল্টিমেট ওয়ানডে ব্যাটসম্যান’ বাছাইয়ের সময় নিজের নাম রাখেননি কোহলি। এমনকি ভারতের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকেও রাখেননি তিনি। বরং শটভিত্তিক ব্যাটসম্যান বাছাই করতে গিয়ে সাতজন কিংবদন্তিকে বেছে নিয়েছেন কোহলি।
গুয়াহাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে স্টার স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোহলিকে তাঁর পছন্দের ‘আল্টিমেট ওয়ানডে ব্যাটসম্যান’ তৈরি করতে বলা হয়। সেখানে প্রতিটি শটের জন্য আলাদা একজন করে ব্যাটসম্যান বেছে নেন তিনি।
শুরুতেই ছিল স্ট্রেট ড্রাইভ। এই শটের জন্য কোনো দ্বিধা ছাড়াই কোহলি বেছে নেন ভারতের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকে। স্ট্রেট ড্রাইভে টেন্ডুলকারের নিখুঁত ব্যাটিংয়ের কারণেই হয়তো তাঁর নামটিই প্রথমে এসেছে কোহলির পছন্দের তালিকায়।
এরপর আসে কাভার ড্রাইভ। এই শটের জন্য নিজের নাম বেছে নেওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকলেও কোহলির পছন্দ শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা। বাঁহাতি এই ব্যাটারের কাভার ড্রাইভ ছিল যেমন টেকনিক্যালি নিখুঁত, তেমনি দৃষ্টিনন্দন।
ফ্লিক শটের জন্যও নিজের নাম রাখেননি কোহলি। এই শটের ক্ষেত্রে তাঁর পছন্দ ভারতের সাবেক অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়। অথচ ফ্লিক শটেও কোহলির নিজের দক্ষতা নিয়ে ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।
কাট শটের জন্য কোহলির পছন্দ বীরেন্দর শেবাগ। ভারতের সাবেক ওপেনারের ব্যাটিংয়ে স্কয়ার কাট ছিল বাউন্ডারি আদায়ের অন্যতম কার্যকর অস্ত্র। তাই এই শটের জন্য শেবাগকে বেছে নেওয়ায় খুব একটা অবাক হওয়ার সুযোগ নেই।
সুইপ শটের ক্ষেত্রে অবশ্য কিছুটা সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন কোহলি। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটার ম্যাথু হেইডেনকে বেছে নেন তিনি। আর ছক্কার জন্য তাঁর পছন্দ ছিল ক্যারিবীয় ক্রিকেটের বিধ্বংসী ব্যাটার ক্রিস গেইল।
গেইলের প্রতি কোহলির এই পছন্দের পেছনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে গেইলের সঙ্গে খেলেছেন কোহলি। কাছ থেকে দেখেছেন গেইলের শক্তিশালী ব্যাটিং এবং ছক্কা হাঁকানোর সামর্থ্য।
সবশেষে ছিল রানিং বিটুইন দ্য উইকেট। এখানেই সবচেয়ে বড় চমক দেখা যায়। এই বিভাগে ধোনির বদলে কোহলি বেছে নেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক বেঙ্গালুরু সতীর্থ এবি ডি ভিলিয়ার্সকে।
ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে কোহলির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের পাশাপাশি মাঠেও তাঁদের বোঝাপড়া ছিল দারুণ। একই প্রান্তে দুজন থাকলে দ্রুত রান নেওয়া কিংবা উইকেটের মাঝে দৌড়ে রান বের করে নেওয়ার দক্ষতা আইপিএলে একাধিকবার দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ধোনির সঙ্গে উইকেটে সময় কাটাতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন কোহলি—এ কথা তিনি নিজেই বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন। তবে নিজের ‘আল্টিমেট ওয়ানডে ব্যাটসম্যান’ সাজাতে গিয়ে সাতটি ভিন্ন বিভাগে সাত কিংবদন্তির ওপরই আস্থা রেখেছেন ভারতের তারকা ব্যাটার।