বেটিং তদন্তে রিজওয়ান, পাকিস্তান ক্রিকেটে কার্যত একঘরে

Pinky Saha Pinky Saha ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৩ PM BST ৫১ বার পঠিত
বেটিং তদন্তে রিজওয়ান, পাকিস্তান ক্রিকেটে কার্যত একঘরে

Photo Collected

মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেটে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা যেন কাটছেই না। অনলাইন বেটিং ও জুয়াসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে তাঁর মুঠোফোন জব্দ করার পর থেকে পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় কার্যক্রমে অনেকটাই বাইরে রয়েছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।

চলতি মাসের মাঝামাঝি শেষ হওয়া ইংল্যান্ড সফর থেকেই রিজওয়ানকে নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে জব্দ করা তাঁর মুঠোফোন এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তাঁকে ঘরোয়া ক্রিকেটেও খেলতে দেওয়া হচ্ছে না এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।

পিসিবির অবস্থান

তবে রিজওয়ানের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো বিস্তারিত নয়। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বোর্ড জানিয়েছে, এ ধরনের বিষয় তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয় এবং পিসিবির বিধিমালা অনুসরণ করেই সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনা করা হচ্ছে।

অর্থাৎ তদন্ত চললেও রিজওয়ানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেনি পিসিবি।

আদালত ও আইসিসির দ্বারস্থ রিজওয়ান

নিজের মুঠোফোন জব্দ ও তদন্তের প্রক্রিয়া নিয়ে রিজওয়ান আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে সেখান থেকে তিনি প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি বলে জানা গেছে।

এরপর বিষয়টি নিয়ে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের কাছেও যোগাযোগ করেছেন রিজওয়ান। তাঁর প্রশ্ন, ইংল্যান্ড সফরের সময় মুঠোফোন জব্দ করা, সেটি ইংল্যান্ড থেকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া এবং ফরেনসিক পরীক্ষা করার বিষয়ে আইসিসি কিংবা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) অবগত ছিল কি না। এ প্রক্রিয়ায় তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও জানতে চেয়েছেন তিনি।

তবে এখন পর্যন্ত আইসিসির কাছ থেকে কোনো জবাব পাননি রিজওয়ান।

‘নোটিশ দেওয়া মানেই অপরাধী নয়’

রিজওয়ানের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট পোর্টাল ক্রিকবাজের সঙ্গে কথা বলেছেন পিসিবির আইন বিভাগের সাবেক প্রধান তাফাজ্জুল রিজভি। ২০১০ সালের স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির সময় পিসিবির হয়ে আইনি লড়াই করা রিজভি বলেন, এই মুহূর্তে রিজওয়ানের কাছে শুধু একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তাঁকে একটি প্রশ্নমালার উত্তর দিতে বলা হয়েছে।

রিজভির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া বা তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজির হতে বলা মানেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া কিংবা তিনি কোনো অপরাধ স্বীকার করেছেন—এমন নয়। তদন্তের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হতে পারে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে রিজওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না। একইভাবে তাঁর সততা বা সুনাম নিয়েও প্রশ্ন তোলা উচিত নয়।

আইনি ক্ষমতা নিয়ে ব্যাখ্যা

রিজভির মতে, পাকিস্তানের আইনে অনলাইন বেটিং ও জুয়া অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সাইবার ক্রাইম তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপকরণ চাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

কোনো ব্যক্তি দেশের বাইরে থাকলেও, তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে বলে মনে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা তা চাইতে পারে বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

তবে রিজওয়ানের আইসিসির কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রিজভি। তাঁর মতে, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার কাছে যাওয়ার আগে দেশের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।

সব মিলিয়ে, রিজওয়ানের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ফলে তিনি আদৌ কোনো নিয়ম ভেঙেছেন কি না, কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এ মুহূর্তে তা নিশ্চিত নয়। তদন্তের ফল ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর পাকিস্তান ক্রিকেটে।a

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: