ছবি: সংগৃহীত
ক্রিকেটের বড় আঙিনায় আলিস আল ইসলামের আগমনটা ছিল হঠাৎ করেই। ২০১৯ সালে বিপিএলে অভিষেকের আগে কোনো স্বীকৃত ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না তাঁর। অথচ ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে চমকে দিয়েছিলেন এই স্পিনার।
তবে সেই চমকপ্রদ শুরুর পর একটা সময় আড়ালে চলে যান আলিস। বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি বারবার চোটে পড়ায় তাঁর ক্যারিয়ারও বাধাগ্রস্ত হয়। এরপর ২০২৪ সালের বিপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে আবারও আলোচনায় ফেরেন তিনি। ৮ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে ডাক পান।
কিন্তু জাতীয় দলে অভিষেকের আগেই আঙুলের চোটে ছিটকে যেতে হয় তাঁকে। এরপর যতবারই জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, ততবারই চোট কিংবা বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৫ সালের বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হাঁটুর চোটে মাঠের বাইরে চলে যান আলিস। দল ফাইনালে উঠলেও বাইরে বসেই তা দেখতে হয় তাঁকে। দ্রুত পুনর্বাসন শুরু হলেও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় মালয়েশিয়ায় গিয়ে অস্ত্রোপচার করাতে হয়। স্ট্রেচার, ক্রাচ ও খুঁড়িয়ে হাঁটার দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে মাঠে ফিরতে তাঁর প্রায় এক বছর সময় লাগে।
চোট কাটিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরেন আলিস। সেখানে ১০ ইনিংসে ওভারপ্রতি ৩.৮৩ রান দিয়ে ২৪ উইকেট শিকার করেন। এরপর বিপিএলেও ওভারপ্রতি ৬.৬৪ রান দিয়ে ৮ উইকেট পান। তবে জাতীয় দলে ফেরার জন্য তাঁর বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও উন্নতি করার তাগাদা ছিল নির্বাচকদের।
সেই জায়গাতেও নিজেকে উন্নত করেন আলিস। বোলিংয়ে কার্যকর পারফরম্যান্সের সঙ্গে ফিল্ডিংয়েও ইতিবাচক পরিবর্তন এনে নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করেন তিনি। এশিয়ান গেমসের দলে থাকা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন চোটের কারণে ছিটকে গেলে তাঁর জায়গায় বিকল্প হিসেবে জাতীয় দলে সুযোগ পান আলিস।
আলিসকে দলে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেন, টি-টোয়েন্টিতে রহস্য স্পিনারদের ভালো প্রভাব থাকে। আলিসের অ্যাকশনের কারণে ব্যাটসম্যানদের জন্য বল বুঝতে কিছুটা সমস্যা হয়। পাশাপাশি দুই দিকেই বল ঘোরানোর সক্ষমতাকেও তাঁর বাড়তি গুণ হিসেবে দেখছেন নির্বাচকেরা।
আলিসের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে ২০১৯ সালের বিপিএলের হ্যাটট্রিকের পরই প্রশ্ন উঠেছিল। তখন পরীক্ষা করে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। পরে বোলিংয়ে আরও ধার বাড়াতে নিজের অ্যাকশনে পরিবর্তন আনেন তিনি। ২০২৫ সালেও তাঁর অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পরীক্ষায় বৈধতা পান এই স্পিনার।
ফিরে আসার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের হয়ে একটি ম্যাচেও খেলেছেন আলিস, যেখানে পেয়েছেন ৩ উইকেট। সব মিলিয়ে বোলিং পারফরম্যান্স, ফিল্ডিংয়ে উন্নতি এবং দীর্ঘ চোট কাটিয়ে ফেরার পর আবারও নির্বাচকদের বিবেচনায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
এর আগে জাতীয় দলে সুযোগ এলেও অভিষেকের স্বাদ পাওয়া হয়নি আলিসের। এবার এশিয়ান গেমসের মাধ্যমে পাওয়া সুযোগে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর যাত্রা কতটা দীর্ঘ হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।