ছবি: সংগৃহীত
শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছে ভারত। তবে শিরোপা জয়ের পরও ট্রফি হাতে নেওয়া হয়নি ভারতীয় নারী দলের। গত বছর পুরুষদের এশিয়া কাপের ফাইনালের পর এবার নারী এশিয়া কাপের ফাইনালেও পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
রোববার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ফাইনাল শেষ হওয়ার প্রায় ৫০ মিনিট পর শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি রানার্সআপ শ্রীলঙ্কার হাতে প্রাইজমানি তুলে দেন। এরপর আকস্মিকভাবে অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যায়। ভারতের খেলোয়াড়েরা কোনো পদকও নেননি, হাতে ওঠেনি চ্যাম্পিয়ন ট্রফিও।
ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাইনালের পর বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দিতে চেয়েছিলেন নাকভি। কিন্তু ভারতীয় দল তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নিতে রাজি হয়নি। এসিসির সহসভাপতি খালিদ আল জারুনির কাছ থেকে ট্রফি নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ভারত। তবে নাকভি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। এসিসির চেয়ারম্যানের পাশাপাশি তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে নাকভির সঙ্গে ছিলেন খালিদ আল জারুনি, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট ট্রান্সফরমেশন কমিটির প্রধান ইরান বিক্রমারত্নে, আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের সেক্রেটারি জেনারেল এবং টাইটেল স্পনসর প্রতিষ্ঠানের একজন নারী প্রতিনিধি। বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ও সহসভাপতি রাজীব শুক্লা মাঠে উপস্থিত থাকলেও তাঁরা পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চে ওঠেননি। ভারতীয় দলের সঙ্গেই মাঠে ছিলেন তাঁরা।
চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরও পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ওঠেননি। এমনকি সঞ্চালকের সঙ্গে কথা বলার জন্যও তিনি মঞ্চে যাননি। এর আগে সম্প্রচার চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলেন ভারতীয় অধিনায়ক।
তবে ভারতের নারী দলের ফিল্ডিং কোচ শুভদীপ ঘোষ নিজেদের মতো করে একটি পদক বিতরণের আয়োজন করেন। টুর্নামেন্টের সেরা ফিল্ডার হিসেবে নন্দনী শর্মাকে পদক দেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া।
পুরোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি
এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে পুরুষদের এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। সেবারও এসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে পুরস্কার তুলে দিতে মঞ্চে ছিলেন মহসিন নাকভি। তবে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন দল তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নিতে মঞ্চে যায়নি। পরে কল্পিত ট্রফি হাতে উদ্যাপন করতে দেখা যায় ভারতীয় খেলোয়াড়দের।
২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনার পর দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। এরপর থেকে ভারতীয় খেলোয়াড়দের পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে টসের সময় কিংবা ম্যাচ শেষে হাত না মেলানোর ঘটনাও দেখা গেছে। নারী ক্রিকেটেও এর প্রভাব পড়েছে।
‘আমরা চ্যাম্পিয়ন, সেটাই যথেষ্ট’
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান নিয়ে ভারতের কোচ অমল মুজুমদারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের পক্ষেই রয়েছে দল। তাঁর বক্তব্য, ভারতের জন্য টুর্নামেন্ট শেষ এবং দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে—এটাই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
মুজুমদার আরও জানান, পুরো দল ও কোচিং স্টাফ বিসিসিআইয়ের অবস্থানের সঙ্গে একমত। মাঠের পারফরম্যান্সে শিরোপা নিশ্চিত করার পর পুরস্কার বিতরণী নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের চেয়ে সেই অর্জনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ভারতীয় দল।