সংগৃহীত ছবি
দুই দফায় এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে হাজির হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ ক্রিকেটার রবিন দাস। আদালতে হাজিরার পর ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব এসেক্স জানিয়েছে, রবিনের সঙ্গে তাদের আর কোনো চুক্তি নেই। তবে ক্লাবের বিবৃতি অনুযায়ী, চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কারণে নয়, বরং ২০২৬ মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই তাঁর খেলার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
২৪ বছর বয়সী রবিন দাসের জন্ম লন্ডনে। তাঁর বাবা বাংলাদেশি এবং তাঁদের বাড়ি সুনামগঞ্জে। ২০২২–২৩ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ঢাকা ডমিনেটরসের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটেও এসেক্সের হয়ে খেলেছেন এই ব্যাটসম্যান।
দুটি ধর্ষণের অভিযোগ
গত জুলাইয়ে রবিনের বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চে লন্ডনের ব্রিকস্টনে এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের আগস্টে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ইনার লন্ডন ক্রাউন কোর্টে হাজির করা হয় রবিনকে। ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে পাঁচ দিনব্যাপী বিচারকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে তাঁকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়েছে।
এসেক্সের সঙ্গে চুক্তি শেষ
চলতি মৌসুমে এসেক্সের মূল দলের হয়ে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছেন রবিন। গত ২১ জুলাই মিডলসেক্সের বিপক্ষে মেট্রো ব্যাংক ওয়ানডে কাপে ২৯ রান করেন তিনি। সব মিলিয়ে এসেক্সের হয়ে ৬০টি ম্যাচ খেলেছেন এই ব্যাটসম্যান।
রবিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল চেলমসফোর্ডভিত্তিক ক্লাবটি। পরে মৌসুম শেষে তাঁর চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয় এসেক্স।
কী বলেছে ক্লাব
শুক্রবারের আদালত কার্যক্রমের পর দেওয়া বিবৃতিতে এসেক্স জানায়, রবিন দাসকে ঘিরে চলমান মামলার বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত এবং বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করছে। তবে মামলার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চায় না ক্লাবটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রবিনের সাময়িক বরখাস্ত থাকা এবং এর ফলে খেলার বাধ্যবাধকতা পূরণে তাঁর অনুপস্থিতির কারণে ২০২৬ মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই এসেক্সের সঙ্গে তাঁর খেলার চুক্তি শেষ হয়ে যায়। ক্লাবের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত চলমান আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না।
এর আগে এসেক্স জানিয়েছিল, রবিনের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগে বর্ণিত ঘটনাগুলো ক্লাবের কার্যক্রমের বাইরে সংঘটিত হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
রবিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার এখনো শুরু হয়নি। ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে বিচারকাজ শুরুর আগে তিনি শর্তসাপেক্ষে জামিনে রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।