ব্রেকিং

দুর্গাপূজার বদলে ‘শারদোৎসব’ লেখা যাবে না, নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

Admin ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ PM BST ২ বার পঠিত
দুর্গাপূজার বদলে ‘শারদোৎসব’ লেখা যাবে না, নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

Collected

পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজার প্রাক্কালে পূজার নামকরণ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, এবার দুর্গাপূজার পরিবর্তে ‘শারদোৎসব’ লেখা যাবে না। বিশেষ করে পূজামণ্ডপের পাশে বামপন্থী দলগুলোর বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করেই তিনি এ নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বামপন্থীরা পূজামণ্ডপের কাছে বইয়ের স্টলে দুর্গাপূজার পরিবর্তে ‘শারদোৎসব’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। এবার থেকে সেখানে ‘দুর্গোৎসব’ লিখতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে কোনো পূজা কমিটি এমন স্টল অনুমোদন না দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT রবি আজিয়াটা লিমিটেড

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজা কেবল সামাজিক আয়োজন নয়; এটি হিন্দুদের একটি পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, পূজাকে ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রপত্রিকার বিশেষ সংখ্যাকেও ‘শারদসংখ্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা তাঁর কাছে কাম্য নয়।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে সিপিএম। দলটির রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। কেউ পত্রিকা প্রকাশ করেন, কেউ গান বা শিল্পকর্ম নিয়ে কাজ করেন। এসব আয়োজন মিলেই বৃহত্তর অর্থে উৎসবের রূপ নেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সেলিমের দাবি, ‘শারদোৎসব’ শব্দের ব্যবহার বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। এ প্রসঙ্গে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখায় ‘শারদোৎসব’ শব্দের ব্যবহারের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার বহুত্ববাদী চিন্তাধারাকে সংকুচিত করার পথে এগোচ্ছে।

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীও জানিয়েছেন, আগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও পূজামণ্ডপের কাছে তাঁদের বইয়ের স্টল থাকবে। তিনি বলেন, শারদ উৎসবে বইয়ের স্টল বসানো ঠেকানো যাবে না। একই সঙ্গে তিনি মুক্তচিন্তা ও বইয়ের প্রতি রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে সাহিত্যিক রামকুমার মুখোপাধ্যায়ের মতে, ‘শারদোৎসব’ শব্দটি বাংলার সমন্বয়ী সংস্কৃতির দীর্ঘ ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাঁর ভাষ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সীমার বাইরে উৎসবের বৃহত্তর সাংস্কৃতিক তাৎপর্য উপলব্ধি করেছিলেন। শান্তিনিকেতনের ‘শারদোৎসব’ ও ‘বসন্ত উৎসব’ বাংলার সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। উৎসব সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দুর্গাপূজার ধর্মীয় পরিচয় বনাম ‘শারদোৎসব’-এর সাংস্কৃতিক ব্যঞ্জনা—এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাতই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ
শেয়ার করুন: