ইসলামপুরে ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, ১০ কোটি টাকা ফেরতের সুপারিশ

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৫৩ PM BST ময়মনসিংহ জেলা ২৬ বার পঠিত
ইসলামপুরে ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, ১০ কোটি টাকা ফেরতের সুপারিশ

collected

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ৩০ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে অনিয়ম, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা এবং সনদ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সম্প্রতি প্রকাশিত এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তাঁদের সরকারি কোষাগার থেকে নেওয়া প্রায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিআইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া বেতন-ভাতা ফেরতযোগ্য। ওই সময়ের পর নেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামালের নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নেওয়া ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমান ও মনজুর কাদেরের ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা করে, প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমের ৪৫ লাখ ২২ হাজার, নাজমুল হাসানের ২৮ লাখ ২৬ হাজার, মাহফুজুল ইসলামের ২৮ লাখ ১৫ হাজার, ফরিদুল ইসলামের ২৬ লাখ ৯০ হাজার এবং শাহজাহান কবীরের ২৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর ওমর ফারুকের ৩৭ লাখ ৪ হাজার, রুমানা আক্তারের ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার, আফরোজা আক্তারের ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার, রুবিনা ইয়াসমিনের ৩৫ লাখ ৩১ হাজার এবং এসএম আবু হাশেমের ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীমের ২০ লাখ ৪০ হাজার, ফাহমিদা আক্তারের ১৮ লাখ ২৯ হাজার, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হেদায়েত উল্লাহর ১৮ লাখ ৮১ হাজার, আকতার হোসেনের ১৪ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রদর্শক ফয়জুর রহমানের ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ডিআইএর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সহকারী অধ্যাপক আনিছুর রহমানের দাখিল করা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তাঁর নেওয়া ৬১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের বিএড ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও উচ্চতর স্কেলের সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ও জাকিয়া সুলতানার কাছ থেকে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা করে ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জামালপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কামরুজ্জামান জানান, অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ মো. জুবায়ের জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দ্রুত ডিআইএতে ব্রডশিট জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী জবাব না দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবিএম মোস্তফা কামাল দাবি করেন, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অনেক অসংগতি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে। তবে ডিআইএর নির্দেশনা অনুযায়ী ব্রডশিট জবাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: