এজবাস্টনে জন্ম নিলেন ‘রাজবল’, মুগ্ধ করলেন রাজাউল্লাহ

Pinky Saha Pinky Saha ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৪৪ AM BST ২৮ বার পঠিত
এজবাস্টনে জন্ম নিলেন ‘রাজবল’, মুগ্ধ করলেন রাজাউল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত

এজবাস্টন টেস্টে পাকিস্তানের হার ঠেকানো না গেলেও ক্রিকেট বিশ্ব পেয়েছে নতুন এক তারকার। মাত্র ২১ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেকেই গতি, সুইং ও সাহসী ব্যাটিংয়ে নজর কেড়েছেন পাকিস্তানের তরুণ পেসার রাজাউল্লাহ মাসওয়ানি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম বলেই ঘণ্টায় ৮৯ মাইল বা ১৪৩ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করে সিরিজে পাকিস্তানি পেসারদের মধ্যে দ্রুততম ডেলিভারির নজির গড়েন তিনি। এরপর নিজের প্রথম ওভারেই জো রুটকে এলবিডব্লিউ করে অভিষেকটাকে স্মরণীয় করে তোলেন।

এজবাস্টনে বল হাতে চার উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও চমক দেখিয়েছেন রাজাউল্লাহ। পাকিস্তান যখন ইনিংস ব্যবধানে হারের দ্বারপ্রান্তে, তখন নয়ে নেমে মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি ছক্কা, যা টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডের সঙ্গে যৌথভাবে জায়গা করে নিয়েছে। জফরা আর্চার ও গাস অ্যাটকিনসনের মতো পেসারদের বিপক্ষেও ভয়ডরহীন ব্যাটিং করে গ্যালারির দর্শকদের মুগ্ধ করেন তরুণ এই ক্রিকেটার।

রাজাউল্লাহর ক্রিকেটে উঠে আসার গল্পও বেশ বৈচিত্র্যময়। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার আপার দির জেলার নেহাগ দারায় জন্ম তাঁর। দুই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে চলে যান মারদানে। আট ভাই-বোনের সংসারে বাবার বাধার কারণে ছোটবেলায় বড় ভাইয়ের মতো চুপিসারে টেপ টেনিস ক্রিকেট খেলতেন। সেই টেপ টেনিসই পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যাটিংয়ের সাহস ও শট খেলার ধরনে বড় প্রভাব ফেলে।

মারদানের আকমল খান ক্রিকেট একাডেমির প্রধান ও সাবেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার আকমল খানের নজরে আসার পর ক্রিকেট বলে প্রশিক্ষণ শুরু করেন রাজাউল্লাহ। ২০২৩ সালে আন্তজেলা অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে নাম লেখান তিনি। এরপর অ্যাবোটাবাদ আঞ্চলিক অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পান। ধীরে ধীরে ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাঁর প্রতিভার পরিচয় মিলতে থাকে।

পেশোয়ার আঞ্চলিক দলের কোচ রাফাতুল্লাহ তাঁকে অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে দলে নেওয়ার পর বড় সুযোগ আসে রাজাউল্লাহর সামনে। কায়েদে-আজম ট্রফির ২০২৫-২৬ মৌসুমে পেশোয়ারের হয়ে ওপেনিং করেও সেঞ্চুরি করেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাঁর গতি নজরে পড়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের। ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে অনুষ্ঠিত বোলিং ক্যাম্পে ‘প্লেয়ার অব দ্য ক্যাম্প’ও হন তিনি।

প্রথম দুই টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে পাকিস্তানের হারের পর দলে পরিবর্তনের অংশ হিসেবে রাজাউল্লাহকে ডেকে পাঠানো হয়। মাত্র আটটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়েই ইংল্যান্ডে গিয়ে টেস্ট অভিষেক হয় তাঁর। অভিষেকেই গতি ও সুইং দিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন এই তরুণ।

বোলিং অ্যাকশনে সাবেক পাকিস্তানি পেসার ওয়াকার ইউনিসের ছাপ রয়েছে বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। রাজাউল্লাহ নিজেও জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই ওয়াকার ইউনিসকে অনুসরণ করেন এবং তাঁর মতো হওয়ার চেষ্টা করেন।

শেষ পর্যন্ত এজবাস্টনে পাকিস্তান হারলেও রাজাউল্লাহর পারফরম্যান্স আলাদা করে আলোচনায় এসেছে। তাঁর গতি, সুইং, আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং ভয়ডরহীন মানসিকতায় মুগ্ধ হয়েছে দর্শক ও ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা। ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তানের হতাশার সিরিজেই তাই নতুন এক তারকার আবির্ভাব ঘটেছে—যাঁকে ঘিরে ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে ‘রাজবল’ নামটি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: