ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ‘পিকনিক ক্রিকেট’ তকমা সেঁটে ছিল। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মান ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই চিত্র বদলাতে উদ্যোগী হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ফিটনেস টেস্ট, ম্যাচ ফি বৃদ্ধি, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নসহ এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে যুক্ত হয়েছে ব্যাগি ক্যাপ।
এনসিএলের এবারের আসরে আট বিভাগের জন্য থাকছে আট রঙের পৃথক ব্যাগি ক্যাপ। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দলগুলোর অধিনায়কদের মাথায় ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয়। নিজ নিজ বিভাগের ক্রিকেটাররা অধিনায়কদের ক্যাপ পরিয়ে দেন।
চট্টগ্রাম বিভাগের অধিনায়ক ইয়াসির রাব্বি মনে করেন, গত দুই-তিন বছরে এনসিএলে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তার মতে, আগে যেসব সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি ছিল, সেগুলোর অনেকটাই এখন পূরণ করেছে বিসিবি।
ইয়াসির রাব্বি বলেন, একটা সময় জাতীয় ক্রিকেট লিগ বা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে ‘পিকনিক ক্রিকেট’ বলা হতো। তবে গত দুই-তিন বছরে ফিটনেস টেস্ট চালু করা, ম্যাচ ফি বাড়ানো এবং ভ্রমণ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের মতো বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগে দলগুলোকে অনেক দূরের ভেন্যুতে বাসে করে যেতে হতো। এখন দূরবর্তী সফরে বিমানে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। ইয়াসিরের মতে, লজিস্টিকসের দিক থেকে এসব পরিবর্তন ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিবেশ উন্নত করতে ভূমিকা রেখেছে।
সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চট্টগ্রামের অধিনায়ক বলেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে এনসিএল থেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এখন তারা পাচ্ছেন। সব জায়গায় কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তবে আগে কী ছিল আর এখন কী আছে—সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
তবে ভেন্যুভেদে কিছু সমস্যা থাকতেই পারে। বিশেষ করে কক্সবাজারে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ আয়োজন ব্যাহত হলে সেটিকে ভিন্ন বিষয় হিসেবে দেখছেন ইয়াসির। আবহাওয়াজনিত সমস্যার ওপর ক্রিকেট বোর্ড বা খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী ৩ অক্টোবর আট দল নিয়ে মাঠে গড়াবে এবারের এনসিএল। দেশের আটটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো। মিরপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার পাশাপাশি রাজশাহী বিভাগ স্টেডিয়াম, সিলেট আন্তর্জাতিক একাডেমি মাঠ, বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম এবং কক্সবাজার একাডেমি মাঠেও খেলা হবে।
সূচি অনুযায়ী, মিরপুরে মুখোমুখি হবে রংপুর ও ঢাকা বিভাগ। খুলনায় খেলবে খুলনা ও বরিশাল। সিলেটে মুখোমুখি হবে সিলেট ও ময়মনসিংহ। আর চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে লড়বে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী।
এবার এনসিএলে বলের ব্যবহারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কয়েক মৌসুম ডিউক বল ব্যবহারের পর আবারও কোকাবুরা বল ফিরছে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। বল পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই পড়তে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেটাররা।
সিলেট বিভাগের অধিনায়ক জাকির হাসানের মতে, কোকাবুরা বল কিছুটা ব্যাটসম্যানদের পক্ষে যেতে পারে। তবে এনসিএলে অংশ নেওয়া ক্রিকেটাররা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রস্তুত হয়ে আসেন। তাই শুধু ব্যাটসম্যানরাই সুবিধা পাবেন, এমনটা মনে করেন না তিনি।
জাকির বলেন, বোলাররাও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যাটসম্যানদের কঠিন সময় দেওয়ার উপায় খুঁজে নেবেন। তার মতে, উইকেটকে ফ্ল্যাট বলা হলেও একজন বোলার চাইলে সেখান থেকেও নিজের জন্য কিছু সুবিধা বের করে নিতে পারেন। ফলে এবারের এনসিএলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট দেখার প্রত্যাশা করছেন তিনি।
ব্যাগি ক্যাপের সংস্কৃতি চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন জাকির। তার মতে, একটি বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যে আলাদা গর্ব রয়েছে। বিভাগীয় দলের ব্যাগি ক্যাপ সেই পরিচয় ও গর্বকে আরও দৃশ্যমান করবে।
জাকিরের ভাষায়, বিভাগীয় পর্যায়ের এই গর্বের সঙ্গে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের ব্যাগি ক্যাপ পাওয়ার অনুভূতিও যুক্ত হতে পারে। একজন ক্রিকেটার যখন জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়ে ব্যাগি ক্যাপ পান, তখন সেটি তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর বিশেষ অনুভূতি তৈরি করে। তাই ঘরোয়া ক্রিকেটে এই সংস্কৃতি চালু হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি।
এবারের এনসিএলে খুলনার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন, বরিশালের ইফতেখার হোসেন ইফতি, ময়মনসিংহের রাকিবুল হাসান, সিলেটের জাকির হাসান, রংপুরের আকবর আলী, ঢাকার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন এবং রাজশাহীর প্রীতম কুমার দাস নিজ নিজ বিভাগের ক্যাপ গ্রহণ করেন। চট্টগ্রামের অধিনায়ক ইয়াসির রাব্বিও অনুষ্ঠানে ক্যাপ পরেন।
আগামী ৩ অক্টোবর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর শেষ হবে এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগ। নতুন ব্যাগি ক্যাপ, উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা এবং কোকাবুরা বলের প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে এবারের আসর ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করবে—এমন প্রত্যাশা ক্রিকেটসংশ্লিষ্টদের।