ছবি: সংগৃহীত
এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে উৎসবের আমেজে প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কমলা রঙের জার্সি পরে অনুশীলনে নামেন লিটন কুমার দাসসহ ক্রিকেটাররা। মাঠজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়েরও অনুশীলনের ছবি প্রকাশ করে বলেন, ‘উৎসবের রঙে গেমসের প্রস্তুতি শুরু।’
বাংলাদেশে উৎসবের সঙ্গে কমলা রঙের পোশাকের একটি পরিচিত সংস্কৃতি রয়েছে। এশিয়ান গেমস যেহেতু এশিয়ার অন্যতম বড় ক্রীড়া উৎসব, তাই বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ক্রিকেটারদের পোশাকেও রেখেছে সেই উৎসবের আবহ।
রোববার থেকে শুরু হওয়া অনুশীলনে অবশ্য এশিয়ান গেমসের স্কোয়াডের সব ক্রিকেটার উপস্থিত ছিলেন না। তাওহীদ হৃদয়সহ কয়েকজন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে সিরিজ খেলছিলেন। আজ তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। পাঁচ দিন বিশ্রামের পর ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় দলের অনুশীলনে যোগ দেওয়ার কথা সাইফ হাসানদের।
এরপর নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ২৪ সেপ্টেম্বর জাপানের উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন লিটনরা। ২৮ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে। গ্রুপ পর্ব থেকে উঠে আসা হংকং অথবা ওমানের বিপক্ষে খেলতে হবে কোয়ার্টার ফাইনালে। সেমিফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কা।
সেমিফাইনালের আগে ভারতকে এড়াতে পারলে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। আর ফাইনালে বাংলাদেশ-ভারত মুখোমুখি হলে তা হতে পারে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় লড়াই। জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলও এবার বাংলাদেশকে ফাইনালে দেখতে চান।
২০১৪ সালের ইনচন এশিয়ান গেমসে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে শক্তিশালী দল নিয়ে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবার বৃষ্টিবিঘ্নিত সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টসের মাধ্যমে ফল নির্ধারিত হয় এবং বাংলাদেশকে ব্রোঞ্জপদক নিয়ে ফিরতে হয়েছিল। গত আসরেও সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছিল টাইগাররা। এবার তাই ফাইনালের আগে ভারতকে এড়িয়ে যাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, রিশাদ হোসেন ও ইয়াসির আলী রাব্বির এশিয়ান গেমসে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত আসর থেকে গেমসের ক্রিকেট ম্যাচগুলো আন্তর্জাতিক মর্যাদা পাওয়ায় এবার প্রায় সব দেশই শক্তিশালী দল পাঠাচ্ছে। সেই কারণেই লিটন কুমার দাসদের মতো জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের এশিয়ান গেমসে খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এই দল থেকে ভালো ক্রিকেটই চান মোহাম্মদ আশরাফুল। এশিয়ান গেমসে নতুন উইকেটে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা জানিয়েছেন, নতুন হলেও ব্যাটিংবান্ধব উইকেট তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। উইকেট ব্যাটিং সহায়ক হলে ম্যাচে ১৭০ থেকে ১৮০ রান হতে পারে বলেও মনে করেন বিসিবির সাবেক এই কিউরেটর।
২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করা হয়।