‘এত কথা বল কেন?’—কোয়াব নিয়ে মুখ খুলে হুমকির কথা জানালেন মিঠুন

Pinky Saha Pinky Saha ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ PM BST ২৩ বার পঠিত
‘এত কথা বল কেন?’—কোয়াব নিয়ে মুখ খুলে হুমকির কথা জানালেন মিঠুন

ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সময় হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। নির্বাচনের আগে অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হতো বলেও জানান তিনি। বিপিএলের সময় একটি ঘটনায় প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন সাবেক এই ক্রিকেটার।

কারা এসব হুমকি দিয়েছে—এ প্রশ্নে মিঠুন বলেন, বেশির ভাগ ফোনই এসেছে অচেনা নম্বর থেকে। প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করতে চান না বলেও জানান তিনি।

দায়িত্ব নেওয়ার পর কোয়াবের ফান্ডে কোনো অর্থ ছিল না বলেও জানান মিঠুন। নিজেদের অর্থ ও বিভিন্ন ব্যক্তির সহায়তায় কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি সাবেক খেলোয়াড় ও গ্রাউন্ডসম্যানের চিকিৎসায় সহায়তা করেছেন তারা। এক সাবেক ক্রিকেটারের একসঙ্গে পাঁচ সন্তান জন্ম নেওয়ার পর তাদের বাড়িতে নেওয়া পর্যন্ত খরচও বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে দেওয়ার কথা জানান তিনি।

ক্রিকেটারদের সম্মান ও অধিকার রক্ষায় কোয়াবের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মিঠুন। বিসিবির দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে ক্রিকেটারদের প্রকাশ্যে গালিগালাজের প্রতিবাদে বিপিএলের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্রিকেটারদের সম্মান দেখিয়ে কথা বলার দাবি জানিয়েছিলেন তারা।

তবে এক বছরে কোয়াবের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন, ম্যাচ ফি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টিকে দেখছেন মিঠুন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের প্রায় ১৫০ জন ক্রিকেটার সব ম্যাচ খেললে শুধু বিসিবির ক্রিকেট থেকেই বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন।

বাংলাদেশের গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন মিঠুন। তিনি জানান, খেলোয়াড়দের মতামত নেওয়া হয়েছিল এবং দেশের বিষয়টি সবার আগে বিবেচনায় ছিল। তবে ক্রিকেটের স্বার্থে বাংলাদেশ যেন বিশ্বকাপ মিস না করে, সেটিও তারা চেয়েছিলেন।

কোয়াবের সঙ্গে বিসিবির সম্পর্ক নিয়েও মিঠুনের বক্তব্য ছিল স্পষ্ট। তার মতে, বিসিবির ভালো কাজে সমর্থন করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে অন্যায় হলে কোয়াবকেও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সব বিষয়ে বিরোধিতার বদলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এবারের বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েও কোয়াবের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন মিঠুন। তিনি জানান, তারা বিপিএল আয়োজনের পক্ষে ছিলেন। তবে বোর্ড যখন জানায়, অল্প সময়ে গুছিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব নয়, তখন ক্রিকেটারদের জন্য বিকল্প আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পারিশ্রমিক বাড়ানোর আলোচনা আসে বলে জানান তিনি।

প্রিমিয়ার লিগে ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েস’ পদ্ধতি নিয়েও ক্রিকেটারদের মতামত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মিঠুন। তার মতে, দলবদলের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকতে হবে এবং পারিশ্রমিকের অঙ্কও বাস্তবসম্মত হওয়া প্রয়োজন।

ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) সঙ্গেও কোয়াবের যোগাযোগ ভালো বলে জানান মিঠুন। তার দাবি, বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়েরা এবার ডব্লিউসিএর সঙ্গে চুক্তি করেছেন। ফলে বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্টগুলো থেকে চুক্তিভুক্ত নারী ও পুরুষ ক্রিকেটাররা ইমেজ রাইটসের অর্থ পাবেন। মিঠুন জানান, চুক্তির পর ম্যাকাইতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পাঁচ ক্রিকেটারকে ১০ হাজার ডলার করে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: