ছবি: সংগৃহীত
ইংল্যান্ডের কাছে তিন টেস্টের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর আরও বড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান। এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ধীরগতির ওভার-রেটের কারণে পাকিস্তানের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ১১টি পয়েন্ট কেটে নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। একই সঙ্গে দলের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ জরিমানাও করা হয়েছে।
এজবাস্টন টেস্টে নির্ধারিত সময়ের হিসাব সমন্বয়ের পরও পাকিস্তান নির্ধারিত ওভার-রেটের চেয়ে ১১ ওভার পিছিয়ে ছিল। এ কারণে আইসিসির আচরণবিধির ন্যূনতম ওভার-রেটসংক্রান্ত ২.২২ ধারা অনুযায়ী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওভার শেষ করতে ব্যর্থ হলে প্রতি ওভারের জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানার সীমা ৫০ শতাংশ। পাকিস্তান ১১ ওভার পিছিয়ে থাকায় খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।
শুধু আর্থিক জরিমানাতেই বিষয়টি থামেনি। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কম করা প্রতিটি ওভারের জন্য একটি করে চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট কাটা হয়। সেই হিসাবে পাকিস্তানের মোট পয়েন্ট থেকে ১১ পয়েন্ট বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে চলমান ডব্লিউটিসি চক্রে আরও কঠিন অবস্থায় পড়েছে দলটি।
পয়েন্ট কাটার পর ডব্লিউটিসির তালিকায় নবম স্থানে থাকা পাকিস্তানের পয়েন্ট শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৬৩-তে। এজবাস্টন টেস্টে পাকিস্তানের ওভার-রেটের বিষয়টি ম্যাচ কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনে উঠে আসে। মাঠের দুই আম্পায়ার পল রাইফেল ও ক্রিস গ্যাফানি, তৃতীয় আম্পায়ার আল্লাহউদিন পালেকার এবং চতুর্থ আম্পায়ার রাসেল ওয়ারেন এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। আইসিসির এলিট প্যানেলের ম্যাচ রেফারি রঞ্জন মাদুগালে শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ইংল্যান্ড সফরটি পাকিস্তানের জন্য মাঠের পারফরম্যান্সের দিক থেকেও হতাশাজনক ছিল। হেডিংলিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে এক ইনিংস ও ১০৩ রানে হারে তারা। এরপর লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয় পাকিস্তান। এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টেও আট উইকেটে হেরে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয় দলটি।
লর্ডস টেস্টের পর পাকিস্তান দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল। মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলি আঘা, আলি উসমান, আমির জামাল, মুহাম্মদ আওয়াইস জাফর ও খুররম শাহজাদকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর এজবাস্টন টেস্টে সাদা বলের ক্রিকেটের কোচ মাইক হেসনের হাতে টেস্ট দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে কোচিং স্টাফে যোগ দেন অ্যাশলি নফকে। দলে নেওয়া হয় সাত নতুন খেলোয়াড়কে, যাদের মধ্যে পাঁচজনেরই আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না।
তবে এত বড় পরিবর্তনের পরও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের ধারা থামাতে পারেনি পাকিস্তান। সিরিজে তিন ম্যাচেই পরাজয়ের পর এবার ধীরগতির ওভার-রেটের কারণে ১১ ডব্লিউটিসি পয়েন্ট হারানো দলটির জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠল।