ইমরান খানের সঙ্গে মানবিক আচরণের আহ্বান অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়কদের

Pinky Saha Pinky Saha ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৫৮ PM BST ২৯ বার পঠিত
ইমরান খানের সঙ্গে মানবিক আচরণের আহ্বান অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়কদের

ছবি: সংগৃহীত

কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাত সাবেক অধিনায়ক। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তাঁরা জানিয়েছেন, ইমরানের বিরুদ্ধে চলমান আইনি বা রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো পক্ষ নেওয়া তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। বরং একজন সাবেক অধিনায়ক হিসেবে কারাবন্দী একজন মানুষের সঙ্গে আচরণের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তাঁরা চিঠিটি লিখেছেন।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়াহ। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই সাত সাবেক অধিনায়ক নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন, তাঁরা কোনো কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নয়, ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়ক হিসেবে কথা বলছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলমান আইনি কিংবা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে তাঁরা কোনো পক্ষ নিচ্ছেন না। বিষয়টি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলেও উল্লেখ করেছেন তাঁরা। তাঁদের মূল উদ্বেগ কারাগারে থাকা একজন ব্যক্তির সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে।

সাবেক অধিনায়কদের ভাষ্য, রাজনীতির বিষয়টি যাই হোক না কেন, একজন কারাবন্দী মানুষের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা মৌলিক মানবিকতার বিষয়। সেই জায়গা থেকেই তাঁরা ইমরান খানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইমরান খানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এটি সর্বশেষ আবেদনগুলোর একটি। এর আগে গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেখানে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

সাবেক অধিনায়কদের ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, কারাগারে ইমরান খান যে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন, তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার তুলনায় অপ্রতুল। তাঁর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁরা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন।

প্রথম দাবিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডকে ইমরান খানের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ দিতে হবে। ওই বোর্ডে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকদেরও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। বিশেষ করে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়।

দ্বিতীয় দাবিতে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুনর্বহাল হওয়া সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা বা প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তৃতীয় দাবিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল যাই হোক না কেন, চিকিৎসকেরা যে চিকিৎসা পদ্ধতির সুপারিশ করবেন, তা যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়।

ইমরান খান পাকিস্তানের রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। তাঁর নেতৃত্বে পাকিস্তান ১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতে। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরে রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে তাঁর সরকারের পতন ঘটে।

এরপর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাবন্দী হন ইমরান খান। তাঁর দল ও সমর্থকেরা বিভিন্ন সময়ে এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ইমরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গনের সাবেক তারকাদের ধারাবাহিক উদ্বেগে বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার সাত সাবেক অধিনায়কের সর্বশেষ চিঠিতেও রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে কারাবন্দী একজন ব্যক্তির মানবিক অধিকার ও যথাযথ আচরণের বিষয়টিই সামনে আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: