ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শের শৈশবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জিম্বাবুয়ের অনেক স্মৃতি। বাবার চাকরির সুবাদে কয়েক বছর দেশটিতে বসবাসের সময় কারান পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সেই সময়ের স্মৃতি মনে করে মার্শ জানিয়েছেন, একপর্যায়ে তাঁর স্বপ্নই ছিল জিম্বাবুয়ের হয়ে ক্রিকেট খেলা।
২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত মিচেলের বাবা ও সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার জিওফ মার্শ জিম্বাবুয়ে জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় পুরো পরিবার নিয়ে জিম্বাবুয়েতে ছিলেন মিচেল। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে দীর্ঘ সময় ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি দেশটির সংস্কৃতি ও ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়।
সেই সময় জিওফ মার্শের কোচিং সহকারী ছিলেন কেভিন কারান। তাঁর ছেলে টম ও স্যামের সঙ্গে ছোটবেলায় অনেক সময় ক্রিকেট খেলেছেন মিচেল। ক্রিকেট ডট এইউ-এর প্রকাশিত এক ভিডিওতে শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন তিনি।
মার্শ বলেন, কারান পরিবারের ছেলেরা কার্যত তাঁদের পরিবারের সঙ্গেই বড় হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে দুই পরিবার একসঙ্গে সফরও করত। কারানদের বাড়ির উঠানে ছোটদের ক্রিকেট ম্যাচ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্মৃতিকে তিনি বিশেষ ও আনন্দের বলে উল্লেখ করেছেন।
কারান পরিবারের তিন ভাই টম, স্যাম ও বেন পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জায়গা করে নেন। টম ও স্যাম ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন। অন্যদিকে বেন জিম্বাবুয়ের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন। ফলে শৈশবের সেই ক্রিকেটসঙ্গীদের সঙ্গে মিচেল মার্শের স্মৃতি পরবর্তী সময়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গেও একসূত্রে যুক্ত হয়ে গেছে।
জিম্বাবুয়েতে কাটানো সময় মিচেলের ক্রিকেটজীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছিল, সেটিও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট। একসময় তিনি সত্যিই জিম্বাবুয়ের হয়ে খেলতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। দেশটির প্রতি সেই টান এখনো তাঁর মধ্যে রয়েছে।
এবার সেই জিম্বাবুয়ের মাটিতেই মিচেল মার্শের ক্যারিয়ারের বিশেষ একটি মাইলফলক অপেক্ষা করছে। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নেমে নিজের ১০০তম ওয়ানডে খেলবেন তিনি। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ে।
শৈশবের যে দেশে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছিল, সেই দেশেই ১০০তম ওয়ানডে খেলার সুযোগ মিচেল মার্শের ক্যারিয়ারে নিঃসন্দেহে আবেগঘন এক মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে।