ব্রেকিং

কাঁচপুর-ইলিশা নৌপথে ফেরি সার্ভিস চালু, কমবে ভোগান্তি

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ AM BST ঢাকা ১২ বার পঠিত
কাঁচপুর-ইলিশা নৌপথে ফেরি সার্ভিস চালু, কমবে ভোগান্তি

collected

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে ভোলার ইলিশা ঘাট পর্যন্ত নতুন ফেরি সার্ভিস চালু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ১২টি বড় মালবাহী ট্রাক ও দুটি ছোট গাড়ি নিয়ে ফেরি ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ কাঁচপুর সেতুর নিচের ঘাট থেকে ইলিশার উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা পর বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফেরিটি ইলিশা ঘাটে পৌঁছায়।

ফেরির ক্যাপ্টেন মো. জহির উদ্দিন জানান, নতুন এই নৌপথ চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বন্দর এলাকা থেকে আসা যানবাহনের জন্য সুবিধাজনক হবে। নরসিংদী, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পণ্যবাহী যানবাহনও এ পথে চলাচল করতে পারবে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT রবি আজিয়াটা লিমিটেড

বর্তমানে বড় মালবাহী ট্রাকের ফেরিভাড়া ১২ হাজার ৫০০ টাকা, মিনি ট্রাকের ৯ হাজার টাকা, ব্যক্তিগত গাড়ির ৫ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলের ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ট্রাকচালকদের দাবি, ভাড়া আরও কমানো হলে নৌপথটি তাদের জন্য বেশি কার্যকর হবে।

চালকেরা বলছেন, সড়কপথে দীর্ঘ যানজট, অতিরিক্ত সময় ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির কারণে পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফেরিতে যাত্রার সময় বিশ্রামের সুযোগ থাকায় এই চাপও কিছুটা কমবে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, ফেরি চালুর স্থানটিতে আগে থেকেই রাস্তা ছিল। সেটিকে যান চলাচলের উপযোগী করে পন্টুন স্থাপন করা হয়েছে। তবে প্রকল্পে মোট কত ব্যয় হয়েছে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে সুবিধা

নতুন এই ফেরি সার্ভিসের সুফল শুধু পণ্য পরিবহনে সীমাবদ্ধ থাকবে না। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলার বাসিন্দাদের প্রায়ই ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে যেতে হয়। সরাসরি নৌযোগাযোগ চালু হওয়ায় তাদের যাতায়াত সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

একইভাবে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও কর্মজীবীদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের সুযোগ বাড়বে। নতুন নৌপথকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের পরিধিও বাড়তে পারে।

ফেরি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন, সেতু ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ভোলার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের স্থায়ী সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে তিনটি সেতু ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কাজ শেষ হতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

স্থায়ী সড়ক যোগাযোগ চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত কাঁচপুর-ইলিশা ফেরি সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। এ পথে যাত্রী ও যানবাহনের চলাচল বাড়লে ভবিষ্যতে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে নৌপথটি কার্যকর ও জনপ্রিয় করতে নিয়মিত সময়ে ফেরি পরিচালনা, যৌক্তিক ভাড়া, ঘাটে যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং চালকদের জন্য বিশ্রাম ও খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ
শেয়ার করুন: