খিলক্ষেতে শিকল পরিয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন, পরে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:০৫ PM BST ঢাকা জেলা ১৫ বার পঠিত
খিলক্ষেতে শিকল পরিয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন, পরে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

collected

রাজধানীর খিলক্ষেতে মুক্তা ইসলাম নামে এক গৃহবধূকে শিকল পরিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একটি ভিডিও মুক্তার ভাই তানভীর রহমানের মুঠোফোনে পাঠিয়ে তাঁকে বোনকে নিয়ে যেতে বলেছিলেন স্বামী সোহেল শিকদার। ভিডিওতে মুক্তার পায়ে শিকল পরানো এবং বেল্ট দিয়ে তাঁকে মারধরের দৃশ্য দেখা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরিবারের সদস্যরা পরে খিলক্ষেতের বাসায় গিয়ে মুক্তাকে জীবিত পাননি। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলক্ষেতের ৫ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT রবি আজিয়াটা লিমিটেড

মুক্তার পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মুক্তার ছোট ভাই তানভীর রহমান বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি মুক্তার স্বামী সোহেল শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ১ সেপ্টেম্বর মুক্তাকে মারধরের একটি ভিডিও তাঁর ভাই তানভীর রহমানকে পাঠিয়েছিলেন সোহেল। ভিডিও পাঠিয়ে বোনকে নিয়ে যেতে বলা হয়। এর দুই দিন পর মুক্তার মৃত্যুর খবর পান স্বজনেরা। সোহেলকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর মুঠোফোন জব্দ করা হলে সেখানেও ওই ভিডিও পাওয়া যায়।

পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, কয়েক মাস আগে মুক্তার ভাইয়ের কাছে তিন লাখ টাকা চেয়েছিলেন সোহেল। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মুক্তাকে মারধর করা হতো বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহ ও যৌতুকের জন্যও সোহেল মুক্তাকে নির্যাতন করতেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তবে মুক্তা এসব নির্যাতনের কথা পরিবারকে খুব বেশি জানাতেন না।

মুক্তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে। একই এলাকার সোহেল শিকদারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা খিলক্ষেতে বসবাস করতেন। সোহেল প্রথমে মুদিদোকান করলেও পরে এমব্রয়ডারি ব্যবসায় যুক্ত হন। ব্যবসায় প্রত্যাশিত সাফল্য না আসার পর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য বাড়তে থাকে বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজীব ভৌমিক বলেন, মৃত্যুর দুই দিন আগে মুক্তাকে মারধরের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে মারধরের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল দাবি করেছেন, মুক্তা নিজেই ফাঁস নিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সোহেল শিকদারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি মুক্তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ
শেয়ার করুন: