ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ চিকিৎসার অভিজ্ঞতার পর জীবনযাপন ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আরও সচেতন হয়েছেন উপস্থাপক সামিয়া আফরিন। নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, যোগব্যায়াম ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়ামের পাশাপাশি খাবারেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন তিনি। সামিয়া জানান, চিকিৎসার এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বুঝেছেন, শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও জরুরি। তাই অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে এমন মানুষ ও পরিস্থিতি থেকে নিজেকে দূরে রাখছেন।
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া, আল-কোরআনের বাংলা তরজমা পড়া, গান শোনা, বারান্দায় বসে গাছ ও পোষা বিড়ালদের সঙ্গে সময় কাটানো তাকে মানসিক স্বস্তি দেয় বলে জানান সামিয়া। তাঁর ভাষ্য, পরিবারের সদস্যরা তাঁর শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনগুলো বুঝে সহযোগিতা করছেন। কখনো কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা না করলে নিজের মতো সময় কাটাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।
সামিয়া জানান, ২০২২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসা চলেছে, এরপর তিন বছর ধরে ফলোআপ চলছে। এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবন দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এনেছে। আগে যেসব বিষয় খুব বেশি প্রভাব ফেলত না, এখন সেগুলোও কখনো মানসিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলে। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাই কিছু ক্ষেত্রে ‘টক্সিক’ মানুষ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
চিকিৎসার পাশাপাশি কাজের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন সামিয়া। অপারেশনের আগে তাঁর ‘পারপাস’ পডকাস্টের পর্বগুলোর শুটিং শেষ করেছেন, এখন সেগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রচার হচ্ছে। পাশাপাশি ফাউন্ডেশনের কাজ ও ফেসবুক পেজ উন্নয়নের উদ্যোগও চালিয়ে যাচ্ছেন। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শারীরিক অবস্থার কারণে আপাতত ভ্রমণ কঠিন হলেও রাজবাড়ীতে আরও কয়েকটি ক্যানসার সচেতনতামূলক মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ভবিষ্যতে একটি ওয়েলনেস স্টুডিও চালুর ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন সামিয়া। তাঁর মতে, ভালো চিকিৎসা ও খাবারের সুযোগ পাওয়া মানুষদের উচিত সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য সম্মিলিতভাবে কিছু করার চেষ্টা করা।