সংগৃহীত ছবি
ঘরের মাঠে প্রায় ১০ দিন ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এর মধ্যে খেলেছে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও। সব মিলিয়ে আইচি–নাগোয়া এশিয়ান গেমসের আগে প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট বাংলাদেশ দল। আগামী পরশু মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল দিয়ে এবারের এশিয়ান গেমস অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ।
২০২৩ এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালেও বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল মালয়েশিয়া। সেবার সাইফ হাসানের নেতৃত্বাধীন দলকে বেশ কঠিন লড়াই করতে হয়েছিল। শেষ বল পর্যন্ত গড়ানো ম্যাচে মাত্র ২ রানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
এবার অবশ্য তুলনামূলক শক্তিশালী দল নিয়ে এশিয়ান গেমসে গেছে বাংলাদেশ। এর আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল মালয়েশিয়া জাতীয় দলের বিপক্ষে ৫০ ওভারের সিরিজ ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলেছে এবং দুই সিরিজেই মালয়েশিয়াকে ধবলধোলাই করেছে।
তবু প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছেন না বাংলাদেশ দলের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন। জাপানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ ধরনের টুর্নামেন্টে অঘটন ঘটতেই পারে। একই উইকেটে বারবার খেলা এবং টসের মতো বিষয়ও ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিটি ম্যাচকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে খেলতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
সালাহউদ্দীন বলেন, ‘এ ধরনের টুর্নামেন্টে আপসেট হতেই পারে। কারণ, একই উইকেটে বারবার খেলা হয়। এখানে আসলে অনেক সময় টস একটা ফ্যাক্টর হতে পারে। এ কারণে বলব যে প্রতিটি ম্যাচই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগেই জিতে যাওয়া উচিত নয়। খেলেই আমাদের জিততে হবে।’
এশিয়ান গেমসে এবারও বৃষ্টি বেশ কয়েকটি ম্যাচে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হলে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার কারণে সেমিফাইনালে উঠে যাবে বাংলাদেশ। তবে এমনভাবে না গিয়ে মাঠে নেমে ম্যাচ খেলেই জিততে চান সালাহউদ্দীন।
তিনি বলেন, ম্যাচ হলে তিনি খুশি হবেন। কারণ, কয়েক দিন ম্যাচ না খেলে সরাসরি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে নামা কঠিন হয়ে যেতে পারে। তাই আপাতত পরের ধাপ নিয়ে না ভেবে প্রথম ম্যাচেই মনোযোগ দিতে চান বাংলাদেশ দলের কোচ।
দেশ ছাড়ার আগে এশিয়ান গেমসে বড় প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন কোচ ও অধিনায়ক। ফলে ক্রিকেট দলের ওপর প্রত্যাশার চাপও রয়েছে। এবারের এশিয়ান গেমসে এখন পর্যন্ত উশু থেকে একটি ব্রোঞ্জ পদক এসেছে। নারী ক্রিকেট দলও পদক জিততে পারেনি। তাই পুরুষ ক্রিকেট দলের কাছে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।
দেশের মানুষের এই প্রত্যাশার বিষয়টি ক্রিকেটারদেরও জানা বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দীন। তাঁর মতে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজের তুলনায় এশিয়ান গেমসের মতো আসরে পুরো দেশের মানুষের প্রত্যাশা থাকে। সেই প্রত্যাশা থেকেই ক্রিকেটারদের মধ্যে বাড়তি অনুপ্রেরণা রয়েছে।
সালাহউদ্দীন বলেন, ‘যখন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলি, এটা শুধু ক্রিকেটের যাঁরা, তাঁরাই হয়তো সেটা নিয়ে খুব ফোকাস করেন। কিন্তু এখানে পুরো দেশের মানুষ এটার দিকে তাকিয়ে আছে যে একটা পদক আমাদের জন্য। তো আমার মনে হয় ছেলেদের ওই মোটিভেশনটা আছে। আমরাও জানি যে এটার গুরুত্ব কতটুকু।’