Photo Collected
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) মেহেদী হাসান মিরাজের অভিষেকটা দারুণ হলেও শেষটা হলো হতাশায়। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জ্যামাইকা কিংসম্যানের বিপক্ষে বল হাতে নিজের সেরাটা দিতে পারেননি বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। ব্যাটিংয়ের সুযোগও পাননি। শেষ পর্যন্ত গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে জ্যামাইকা।
ব্রিজটাউনে আগে ব্যাটিং করে শিমরন হেটমায়ারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ২০৬ রান সংগ্রহ করে গায়ানা। জবাবে জ্যামাইকা ২ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জয় তুলে নেয়।
ম্যাচে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বোলিংয়ে আসেন মিরাজ। দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মাজ সাদাকাত ও ক্রিক ম্যাকেঞ্জিকে দ্রুত ফেরানোর লক্ষ্য ছিল তাঁর। কিন্তু শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম ওভারেই সাদাকাত দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরে তুলে নেন ১৮ রান।
পাওয়ারপ্লের পর সপ্তম ওভারে আবার বোলিংয়ে ফেরেন মিরাজ। সেই ওভারে দেন ৮ রান। এরপরের দুই ওভারে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখেন জ্যামাইকার ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু নিজের স্পেলের শেষ দুই বলে সাইম আইয়ুব টানা দুটি ছক্কা মারায় শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকতে হয় তাঁকে।
গায়ানার বড় সংগ্রহের মূল কারিগর ছিলেন হেটমায়ার। মাত্র ৪৫ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। এবারের সিপিএলে এটি তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাঁর ইনিংসে ছিল আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের দারুণ প্রদর্শন, যার ওপর ভর করেই ২০০ পেরিয়ে যায় গায়ানার স্কোর।
২০৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জ্যামাইকা অবশ্য কোনো একক ব্যাটসম্যানের ওপর নির্ভর করেনি। সাদাকাত ৪১, ম্যাকেঞ্জি ৩৪ এবং কিচি কার্টি ৫৬ রান করে জয়ের ভিত গড়ে দেন। শেষ দিকে রোভম্যান পাওয়েল মাত্র ১৭ বলে ৪০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি জ্যামাইকার হাতে নিয়ে নেন।
শেষ পর্যন্ত ৪৯.৪ ওভারে নয়, টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হওয়ায় ২ বল হাতে রেখেই ২০৭ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে জ্যামাইকা। এই জয়ে তারা ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে গায়ানার টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে গেছে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারেই।
এবারই প্রথম সিপিএলে খেললেন মিরাজ। মোহাম্মদ নবীর বদলি হিসেবে গায়ানার হয়ে পাঁচ ম্যাচ খেলার সুযোগ পান তিনি। টুর্নামেন্টের শুরুটা অবশ্য বেশ ভালো ছিল বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডারের। প্রথম তিন ম্যাচেই পেয়েছিলেন ৯ উইকেট।
তবে প্লে-অফে এসে তাঁর পারফরম্যান্সে ছন্দপতন ঘটে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে ১.২ ওভার বোলিং করে ১০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ৪ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি।
ব্যাট হাতেও সিপিএলে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি মিরাজ। চার ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ২১ রান। স্ট্রাইক রেটও ছিল ৫০-এর নিচে—৪৮.৮৩।
ফলে পাঁচ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে সিপিএলে অভিষেক করা মিরাজের অভিযান শেষ হলো মিশ্র অভিজ্ঞতায়। ব্যক্তিগতভাবে বোলিংয়ে ভালো শুরুর পরও শেষ দুই প্লে-অফ ম্যাচে উইকেট না পাওয়ার হতাশা নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করলেন তিনি। আর হেটমায়ারের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও জ্যামাইকার কাছে হেরে ফাইনালের আগেই বিদায় নিল গায়ানা।