collected
সকালের আলো পুরোপুরি ফোটার আগেই মৌলভীবাজার শহরের পশ্চিম বাজারের মৌলভী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ স্কয়ার চত্বরে শুরু হয় ব্যস্ততা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ট্রাক থেকে নামানো হয় বস্তাভর্তি সবজি। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকেরাও অটোরিকশা, টমটম ও পিকআপে করে নিয়ে আসেন নিজেদের খেতের ফসল। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে ধীরে ধীরে জমে ওঠে ভোরের সবজি হাট। প্রায় ৫০ বছর ধরে চলে আসা এ হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন সবজি আসে। বগুড়া, রাজশাহী, খুলনা, যশোর, পাবনা, ভৈরব ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ট্রাকে করে আনা হয় বিভিন্ন ধরনের সবজি। আর স্থানীয় কৃষকেরা শ্রীমঙ্গল, আদমপুর, গিয়াসনগর, সাতগাঁও ও দিগম্বরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার ভোরে হাটে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি ট্রাক থেকে শ্রমিকেরা বস্তাভর্তি সবজি নামাচ্ছেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের উপস্থিতি। বেগুন, করলা, টমেটো, শসা, পেঁপে, পুঁইশাক, কচুর লতি, চিচিংগা, সাতকরা, কাঁচা মরিচ, লাউ, কুমড়া ও আলুসহ নানা ধরনের সবজিতে ভরে ওঠে পুরো হাট। কমলগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণপুর থেকে বেগুন নিয়ে হাটে এসেছেন কৃষক সনাতন মালাকার। সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার তিনি নিজের খেতের সবজি নিয়ে এখানে আসেন। তিনি বলেন, সবজি উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচ রয়েছে। এসব ব্যয় বাদ দেওয়ার পর ভালো দাম না পেলে কৃষকের হাতে তেমন লাভ থাকে না। সকাল ৬টার দিকে হাটে বেচাকেনা সবচেয়ে বেশি জমে ওঠে। খুচরা বিক্রেতারা ভ্যান, রিকশা ও টমটমে করে সবজি নিয়ে ছড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন এলাকায়। বেলা ১টা থেকে ২টার মধ্যে হাটের মূল বেচাকেনা প্রায় শেষ হয়ে যায়। এরপর আড়ত খোলা থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কমে আসে। স্থানীয় আড়তদারদের হিসাবে, এক বেলার এ হাটে প্রতিদিন আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সবজি বিক্রি হয়। ফলে এটি শুধু সবজি কেনাবেচার কেন্দ্র নয়, বরং কৃষক, আড়তদার, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী ও খুচরা বিক্রেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।