collected
অপরাধী চক্রের কতটা প্রভাব রয়েছে তা বিবেচনা না করে মানব পাচারকারীদের দমন করাই মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রত্যেক মানুষের নাগরিক অধিকার হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তা না হলে সমাজের দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ নানা ধরনের দাসত্ব ও শোষণের বন্ধনে জড়িয়ে পড়তে পারেন।
মানব পাচার বন্ধে শক্ত আইন প্রণয়ন এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে অপরাধী চক্র গড়ে ওঠার সুযোগ কমে যায়। এসব চক্র সমাজের মধ্য থেকেই তৈরি হয় এবং আইনের শাসন কার্যকর থাকলে তাদের দমন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, আইনের শাসনের ঘাটতির কারণে তৃণমূল পর্যায়ে নানা ধরনের অবিচার ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। অর্ধশিক্ষিত বা নিরক্ষর মানুষ অনেক সময় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না এবং নিজেদের দাবি-দাওয়া যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারেন না। এর ফলে তারা বিভিন্নভাবে নিগৃহীত হন।
বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে রিজভী বলেন, অনেক মানুষ পর্যাপ্ত তথ্য না জেনে ফড়িয়া ও প্রতারক চক্রের কাছে সামান্য জমি-জায়গা বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেন। এভাবে তারা মানব পাচারকারীদের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারান।
তিনি বলেন, প্রতারক চক্রের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার পর অনেকেই পথেই কিংবা গন্তব্যে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন আইনগত জটিলতায় দেশে ফেরত আসতে বাধ্য হন। কিন্তু তখন তাদের হাতে আর কোনো সহায়-সম্বল থাকে না।
বাল্যবিবাহ ও শিক্ষার অভাবকেও মানব পাচারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত করেন রিজভী। তার মতে, বাল্যবিবাহের পর সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে অনেক মেয়ের শিক্ষাজীবন বন্ধ হয়ে যায়। এতে আত্মনির্ভরশীলতা ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠী মানব পাচারের ঝুঁকিতে বেশি থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, সমাজের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ মানব পাচারের শিকার হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কার্যকরভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।