ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাগামী উড়োজাহাজের জন্য বিকল্প পথ খুঁজছে ভারত। এর অংশ হিসেবে চীনের সিনকিয়াং অঞ্চলের হোটান হয়ে একটি বিকল্প আকাশপথ ব্যবহারের বিষয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পেহেলগাম হামলার পর ভারত ও পাকিস্তান পরস্পরের উড়োজাহাজের জন্য আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এরপর পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে ভারতীয় বিমানগুলোকে পশ্চিমমুখী বিভিন্ন গন্তব্যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন সময় ও জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। পাকিস্তানের নিষেধাজ্ঞা বর্তমানে বহাল রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় সিনকিয়াংয়ের হোটানকে সম্ভাব্য বিকল্প রুট হিসেবে বিবেচনা করছে ভারত। প্রস্তাবিত পথে ভারতীয় উড়োজাহাজ লেহ হয়ে চীনের আকাশসীমায় প্রবেশ করে হোটানের ওপর দিয়ে পশ্চিম দিকে গিয়ে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে। তবে এই রুট চালু করতে চীনের অনুমতি এবং দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল ও আকাশপথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ থাকার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে দীর্ঘপথের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ার ইন্ডিয়ার ওপর। ২০২৫ সালে রয়টার্সের দেখা এক চিঠিতে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, নিষেধাজ্ঞা এক বছর বহাল থাকলে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি ডলার হতে পারে।
বর্তমানে হোটান রুট নিয়ে আলোচনা চললেও এটি ব্যবহারের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। ভারতের বেসামরিক বিমানমন্ত্রীও আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি। ফলে প্রস্তাবিত রুটটি কবে থেকে বাস্তবে ব্যবহার করা যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
এরই মধ্যে ভারত-চীন সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির প্রেক্ষাপটে হোটান রুট নিয়ে আলোচনাটি গুরুত্ব পাচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের সম্পর্ক আগের কয়েক বছরের তুলনায় উন্নত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তবে হোটান রুট বাস্তবায়নের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত চীনের অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করবে।