ছবি: সংগৃহীত
পুনর্জন্ম নিয়ে নিজের ইচ্ছার কথা এক পুরনো সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর। জাভেদ আখতারের সঙ্গে সেই কথোপকথনে তাকে পুনর্জন্ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, পরের জীবনে নারী নয়, পুরুষ হিসেবে জন্মানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
তবে শুধু লিঙ্গ পরিবর্তনের ইচ্ছাই নয়, পুনর্জন্ম হলে আর লতা মঙ্গেশকর হয়ে ফিরতে চান না বলেও জানিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
পুনর্জন্মের প্রসঙ্গে লতা বলেছিলেন, আবার জন্ম না হলেই তার ভালো। আর যদি সত্যিই পুনর্জন্ম হয়, তাহলে তিনি আর লতা মঙ্গেশকর হতে চান না। এর কারণ জানতে চাওয়া হলে নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানিয়েছিলেন, লতা মঙ্গেশকরের জীবনে কী ধরনের কষ্ট ছিল, তা সবচেয়ে ভালো জানেন লতা নিজেই।
সাধারণ পরিবারের ইচ্ছা
পরের জীবনে শুধু নিজের পরিচয় বদলানোর কথা নয়, তুলনামূলক সাধারণ ও ছোট একটি পরিবারে জন্মানোর ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন লতা। আর সেই জীবনে নারী নয়, পুরুষ হিসেবে জন্মাতে চেয়েছিলেন তিনি।
লতার এই বক্তব্যটি তার পুরনো সাক্ষাৎকার থেকে নেওয়া। সেখানে নিজের জীবন, অভিজ্ঞতা ও পুনর্জন্ম নিয়ে ভাবনার কথা বেশ খোলামেলাভাবেই জানিয়েছিলেন তিনি।
দায়িত্ব ও সংগ্রামে কেটেছে শৈশব
লতা মঙ্গেশকরের জীবন ছিল দায়িত্ব ও সংগ্রামে ভরা। মাত্র ১৩ বছর বয়সে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। ১৯৪২ সালে বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকরের মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক দায়িত্বও তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
পরবর্তী সময়ে এক সাক্ষাৎকারে লতা জানিয়েছিলেন, তাদের পরিবারের নয়জন সদস্য একসময় একটি ঘরে থাকতেন। অর্থ সাশ্রয়ের জন্য অনেক সময় বাসে না উঠে হেঁটেও যাতায়াত করতেন তিনি।
সংগীতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার দীর্ঘ পথ
সংগীতের জগতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পথও লতার জন্য সহজ ছিল না। শুরুর দিকে চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার পাশাপাশি অভিনয় করেও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হয়েছিল তাকে।
১৯৪৮ সালে ‘মজবুর’ সিনেমার ‘দিল মেরা তোড়া’ গান দিয়ে বড় সুযোগ পান লতা। পরের বছর ‘মহল’ সিনেমার ‘আয়েগা আনেওয়ালা’ গানটি তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।
এরপর কয়েক দশক ধরে হিন্দি, বাংলা, মারাঠিসহ বিভিন্ন ভাষায় গান গেয়ে ভারতীয় সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি।
ব্যক্তিজীবন নিয়েও ছিল স্পষ্ট অবস্থান
ব্যক্তিজীবনেও নিজের মতো করে পথ চলেছেন লতা মঙ্গেশকর। ১৯৯৯ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, মাত্র ১৩ বছর বয়সে কাজ শুরু করার পর পরিবারের নয়জন সদস্যের জীবিকার দায়িত্ব তার ওপর ছিল।
এ কারণে বিয়ের কথা ভাবার মতো সময়ও তিনি পাননি বলে জানিয়েছিলেন। একই সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই বলেও জানিয়েছিলেন এই শিল্পী।
২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৯২ বছর বয়সে মারা যান লতা মঙ্গেশকর। মৃত্যুর পরও তার পুরনো সাক্ষাৎকার, জীবন ও সংগীতজীবনের নানা অজানা দিক নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ কমেনি। পুনর্জন্ম নিয়ে তার এই পুরনো কথোপকথনও সেই আগ্রহেরই একটি উদাহরণ।