শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিমকে ঘিরে আওয়ামী লীগে নতুন আলোচনা

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ AM BST ১৬ বার পঠিত
শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিমকে ঘিরে আওয়ামী লীগে নতুন আলোচনা

collected

বাংলাদেশে সরকারের নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় দলটির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা অনুপস্থিত থাকলে তার দায়িত্ব কে পালন করবেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও মতবিরোধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তার অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠতম সদস্য শেখ সেলিম দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT রবি আজিয়াটা লিমিটেড

এরপর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে শেখ সেলিমকে ঘিরে দলের ভেতরে বিরোধ ও অসন্তোষের খবর প্রকাশিত হয়। তবে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এসব তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এএফএম বাহাউদ্দিন নাছিম এ ধরনের তথ্য প্রত্যাখ্যান করলেও এ বিষয়ে বিবিসি বাংলার কাছে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সম্প্রতি শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে দলের কিছু কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কয়েকটি বৈঠকে তিনি সভাপতিত্বও করেছেন। তিনি দলের সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য হওয়ায় এসব বৈঠকের কিছু তার নিউটাউনের বাসায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়টি নিয়ে দলের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত অবশ্য নেতৃত্ব নিয়ে কোনো সংকটের কথা অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনা নেতৃত্বের বিষয়ে দলের গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কথাই বলেছেন। তার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিম সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে কয়েকটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দলের সভানেত্রী আছেন এবং থাকবেন। নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন বা নতুন সিদ্ধান্তের একমাত্র ফোরাম হলো দলের কাউন্সিল। ফলে বর্তমানে নেতৃত্ব নিয়ে যে প্রচারণা চলছে, তা গুজব।

আওয়ামী লীগের আরেক নেতা হাবিবে মিল্লাতও বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যেকোনো ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে পারেন। তবে দলের বর্তমান প্রস্তুতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করেই এবং তিনিই দলের সভাপতি আছেন।

আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের ইতিহাস

আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের ঘটনা নতুন নয় বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. সাব্বীর আহমেদ।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগ চরম রাজনৈতিক সংকটে পড়ে। পরবর্তী সময়ে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে দলটি আওয়ামী লীগ (মিজান) ও আওয়ামী লীগ (মালেক) নামে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়।

পরে ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সে সময় তিনি বিদেশে অবস্থান করছিলেন। দেশে ফিরে দলের নেতৃত্ব গ্রহণের পর ধীরে ধীরে তার একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

তবে ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা কারাগারে থাকা অবস্থায় দলের ভেতরে সংস্কার ইস্যুতে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা সক্রিয় হন। সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি এবং পরবর্তী সময়ে দলের ওপর শেখ হাসিনার কর্তৃত্ব আরও সুদৃঢ় হয়।

২০০৯ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। এরপর ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত শেখ হাসিনাই দলটির প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নেতা হিসেবে ছিলেন।

অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদের মতে, নেতৃত্ব যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত না হয়, তাহলে যেকোনো সময় দ্বন্দ্ব, সংকট বা গ্রুপিং তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শেখ সেলিমকে ঘিরে বর্তমান আলোচনাও সত্য হলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ
শেয়ার করুন: