স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন আচরণবিধি, এআই দিয়ে প্রচার নিষিদ্ধ

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৪৯ PM BST ১৫ বার পঠিত
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন আচরণবিধি, এআই দিয়ে প্রচার নিষিদ্ধ

collected

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নতুন নির্বাচনী আচরণবিধিমালা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য পৃথক আচরণবিধি প্রকাশ করা হলেও বিধানগুলো প্রায় অভিন্ন।

রোববার রাতে এসব আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করা হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় নতুন করে আচরণবিধিমালা প্রণয়ন করেছে ইসি। নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও কমিশন ইতোমধ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT রবি আজিয়াটা লিমিটেড

নতুন আচরণবিধিতে ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, চরিত্র হনন, ভুয়া তথ্য বা ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনলাইনে প্রচারণা চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের আইডি ও ই-মেইল ঠিকানা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

আগের মতো এবারও প্রচারের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না। জনসভা বা মিছিলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীর সঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচজন সমর্থক থাকতে পারবেন।

আচরণবিধিতে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ভোটার কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না। একইভাবে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) লেনদেনের উদ্দেশ্যে ভোটারদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। আচরণবিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা, সংসদ সদস্য এবং সমপদমর্যাদার ব্যক্তিরা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের মেয়র বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং প্রশাসকদেরও সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কোনো ব্যক্তির প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ওপরও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এসব বিধান কার্যকর করা হবে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ
শেয়ার করুন: