ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর খুব বেশি সময় না পেরোতেই ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। আগামী বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগালের মধ্যে ফাইনাল আয়োজনের দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে স্পেন ও মরক্কো। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু এত দিন এগিয়ে থাকলেও এবার মরক্কোও নিজেদের মাঠে ফাইনাল আয়োজনের দাবি তুলেছে।
মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজা সম্প্রতি দাবি করেছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল মরক্কোতেই অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর এমন বক্তব্যের পর স্পেনে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার মাদ্রিদে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের মুখোমুখি হন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনিও।
ফাইনাল কোথায় দেখতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে পর্তুগিজ কোচ প্রথমে রসিকতা করে বলেন, ‘ফাইনালটি কোথায় হওয়া উচিত আর আমি কোথায় দেখতে চাই—দুটি দুই বিষয়। আমি চাই লিসবনে হোক।’ নিজের দেশ পর্তুগালের রাজধানীর নাম নেওয়ার পর অবশ্য বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে মরিনিও বলেন, এমন একটি ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ থাকলে, যেখানে বিশ্বের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়েরা খেলেছেন, ফাইনাল মাদ্রিদেই হওয়া উচিত। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে পক্ষপাতিত্ব করছেন কি না, সেটিও পরিষ্কার করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, তিনি বেনফিকার কোচ হলেও একই কথা বলতেন।
রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু সম্প্রতি প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের ফাইনাল আয়োজনের জন্য স্টেডিয়ামটি অন্যতম আকর্ষণীয় ভেন্যু হতে পারে।
অন্যদিকে মরক্কো যে স্টেডিয়ামে ফাইনাল আয়োজন করতে চায়, সেটি এখনো নির্মাণই হয়নি। কাসাব্লাংকার উপকণ্ঠে ‘কিং হাসান দ্বিতীয় স্টেডিয়াম’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশন। প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণক্ষমতা হবে ১ লাখ ১৫ হাজার। নির্মিত হলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়ামগুলোর একটি হবে।
২০৩০ বিশ্বকাপে মোট ছয়টি দেশে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে একটি করে ম্যাচ হবে। বাকি ম্যাচগুলো আয়োজন করবে স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগাল। তবে মূল বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষ পর্যন্ত কোন শহর ও স্টেডিয়ামে হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।