নারী ক্রিকেটারদের ফিটনেস ঘাটতি, বড় পরিবর্তনের তাগিদ কোচ ইমরানের

Pinky Saha Pinky Saha ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৩৩ PM BST ৩ বার পঠিত
নারী ক্রিকেটারদের ফিটনেস ঘাটতি, বড় পরিবর্তনের তাগিদ কোচ ইমরানের

ছবি: সংগৃহীত

নারী টি২০ এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে চার ম্যাচ খেলে দুটি হারের পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রধান কোচ সারওয়ার ইমরান। তাঁর মতে, ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ক্রিকেটারদের ফিটনেস ঘাটতি। পাশাপাশি নারী ক্রিকেটে নিয়মিত ঘরোয়া প্রতিযোগিতা, বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারকে বড় সুযোগ হাতছাড়া হিসেবে দেখছেন ইমরান। ভারতের বিপক্ষে ক্যাচিং ও মিসফিল্ডিংয়ের কারণে বাংলাদেশ বাজেভাবে হেরেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, খেলোয়াড়দের ফিটনেস ভালো থাকলে মাঠে এমন ভুলের সংখ্যা কমানো সম্ভব হতো।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT রবি আজিয়াটা লিমিটেড

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করতে গিয়ে কোচ বলেন, প্রতিপক্ষ দলটি আগের চেয়ে অনেক বেশি গোছানো এবং শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকেও এগিয়ে। ফিটনেসের উন্নতি ব্যাটিং, রানিং বিটুইন দ্য উইকেট ও ফিল্ডিংয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন তিনি। এতে ব্যাটিংয়ে অতিরিক্ত রান যোগ করার পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে ১০ থেকে ২০ রান পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন ইমরান।

দলের মূল খেলোয়াড়দের ফিটনেসে ঘাটতি রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, উন্নতির জন্য ক্রিকেটারদের নিজেদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। ট্রেনার চেষ্টা করলেও খেলোয়াড়ের নিজস্ব প্রচেষ্টা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে সারা বছর ফিট থাকা এবং ফিটনেস টেস্ট বাধ্যতামূলক করার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।

এশিয়া কাপের আগে বিশ্বকাপ বাছাই ও বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্সের পর এবার কেন এমন ব্যর্থতা—এমন প্রশ্নে ইমরান বলেন, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে বাংলাদেশকে বর্তমান অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাঁর মতে, শুধু পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের ওপর নির্ভর করলে দলের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হবে না।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে ঘরোয়া ক্রিকেটকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হিসেবে দেখছেন এই কোচ। তাঁর অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে কোনো লিগ নেই। নারী বিপিএল আয়োজনের কথা বলা হলেও সেটি এখনো হয়নি। নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট, স্কুল ক্রিকেট ও বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট না হলে নতুন প্রতিভা উঠে আসবে না এবং দলে প্রতিযোগিতাও তৈরি হবে না বলে মনে করেন তিনি।

অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্নের জবাবে ইমরান তাকে সরাসরি দায়ী করতে রাজি নন। তাঁর মতে, জ্যোতি ২০-২২ রান করলেও সেট হয়ে আউট হওয়া ব্যর্থতার অংশ। তবে অন্য ব্যাটাররা কী করেছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সামনে এশিয়ান গেমসে ভালো করার লক্ষ্য রয়েছে জানিয়ে ইমরান বলেন, বাংলাদেশ ফাইনাল খেলতে চায়। তবে হঠাৎ করে বড় সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়। সারা বছর ভালো খেলা এবং একটি পরিপূর্ণ ক্রিকেট কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

ইমরানের মতে, বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত ভারতকে হারানোর সক্ষমতা তৈরি করা। এ জন্য সবার আগে ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি মেয়েদের জন্য নিয়মিত খেলার ব্যবস্থা ও নিজস্ব ভেন্যু থাকা প্রয়োজন, যাতে তারা সারা বছর ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, সামান্য ফিটনেস উন্নতিতে বড় পরিবর্তন আসে না। স্কোয়াডের সব খেলোয়াড়কে ফিটনেসের দিক থেকে উন্নতি করতে হবে। নিয়মিত টি২০সহ ঘরোয়া প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো ছাড়া নারী ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নেওয়া কঠিন।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ
শেয়ার করুন: