মৌসুমের শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে বার্সেলোনার। রোববার রাতে মেস্তায়ায় ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চার ম্যাচে চার জয় তুলে নিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানও ধরে রেখেছে কাতালান ক্লাবটি। তবে বড় ব্যবধানে জয়ের পরও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বার্সেলোনা কোচ।
ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে জোড়া গোল করেছেন লামিনে ইয়ামাল। একটি করে গোল পেয়েছেন রাফিনিয়া, ফেরমিন লোপেজ ও পেদ্রি। চার ম্যাচে বার্সেলোনার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭-তে। এর মধ্যে রাফিনিয়া করেছেন ছয় গোল, আর ইয়ামাল ও ফেরমিনের গোল চারটি করে।
ম্যাচ শেষে ফ্লিক দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করলেও নিখুঁত হওয়ার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, বার্সেলোনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আধিপত্য দেখাতে পেরেছে এবং আক্রমণে নিজেদের সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েছে। তবে প্রতিটি ম্যাচেই আরও উন্নতির জায়গা থাকে বলেও মনে করেন তিনি।
বার্সেলোনার দুর্দান্ত আক্রমণভাগের মধ্যেই একজন প্রকৃত ‘নাম্বার নাইন’ প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। রবার্ট লেভানডফস্কি ও ফেরান তোরেসের বিদায়ের পর নতুন স্ট্রাইকারের সন্ধানে ছিল ক্লাবটি। আতলেতিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেজকে দলে নেওয়ার চেষ্টা সফল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে দলে আনে বার্সা। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে তাঁর অভিষেকও হয়েছে।
তবে জেসুসের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ফ্লিক মনে করছেন, একজন স্বীকৃত স্ট্রাইকার এখনো দলের প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠে গোল করার মতো একাধিক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।
ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে বার্সেলোনার প্রথম একাদশে অভিষেক হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আসা রদ্রিরও। প্রায় এক ঘণ্টা মাঠে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই মিডফিল্ডার। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮১টি সফল পাসও ছিল তাঁর। রদ্রির বল নিয়ন্ত্রণ, মাঠের কাঠামো ধরে রাখা এবং বল হারানোর পর দলের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রশংসা করেছেন ফ্লিক।
চার ম্যাচে চার জয় নিয়ে বার্সেলোনার শুরুটা এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত। তবে সামনে আরও কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষা। লা লিগায় পরের ম্যাচে ১৩ সেপ্টেম্বর লেভান্তের মুখোমুখি হবে ফ্লিকের দল। তার আগে ৯ সেপ্টেম্বর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেইনুর্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বার্সেলোনা।