ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর পশ্চিম আয়ারল্যান্ডের ডুনবেগ এলাকায় নিজের মালিকানাধীন গলফ কোর্সে একটি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। প্রায় ৪৮ ঘণ্টার এই সফরটি কোনো আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর নয়। তবে বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে আইরিশ সরকারের উদ্বেগ আলোচনায় আসতে পারে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার প্রচেষ্টার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ট্রাম্প। যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়েও মার্কিন ভোটারদের উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফরকে ঘিরে ডাবলিন ও ডুনবেগ এলাকায় ট্রাম্পবিরোধী এবং যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডুনবেগেই ট্রাম্পের মালিকানাধীন আন্তর্জাতিক গলফ কোর্সটি অবস্থিত।
ফিলিস্তিন ইস্যুতেও আয়ারল্যান্ডের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দেশটি ফিলিস্তিনের পক্ষে তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। গত জুলাইয়ে ইসরাইলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরের বসতিগুলোর সঙ্গে পণ্য বাণিজ্য কমানোর উদ্যোগ নিয়ে একটি আইনও পাস করে আয়ারল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতা এবং আয়ারল্যান্ডে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ওই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন।
তবে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক বিরোধে জড়াননি। ট্রাম্পের সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানও আলোচনায় আসতে পারে।