ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা, নিহতের দাবি

Pinky Saha Pinky Saha ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৪২ PM BST ২ বার পঠিত
ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা, নিহতের দাবি

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের মোখা ও ধুবাব এলাকায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বিমানবাহিনী। এসব হামলায় বহু হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT রবি আজিয়াটা লিমিটেড

আল-নুজাইলির দাবি, মোখা বন্দর ও শহরের জায়েদ আল-খারজ শপিং মলের কাছে চালানো হামলায় হুতিদের কয়েকটি যানবাহন ও অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। এ সময় হুতিদের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, মোখায় পানি প্রকল্পের প্রশাসন কার্যালয়ের পাশেও কয়েকজন হুতি সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া মোখা শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে মোখা-ধুবাব সড়কের একটি পশু কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র এলাকায় হুতিদের যোদ্ধা ও যানবাহন জড়ো হওয়ার স্থানেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

ইয়েমেনের এই সামরিক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মোখার উত্তর পাশের রিং রোডে সাবেক এক সামরিক নেতার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্থানে জড়ো হওয়া হুতি সদস্যরাও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন।

তবে এসব হামলায় নিহত ও আহতের সঠিক সংখ্যা কিংবা মোট ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর দেওয়া হতাহতের দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘদিনের সংঘাত

ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সংঘাত দীর্ঘদিনের। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা এবং দেশের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিকভাবে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনে সহিংসতা কিছুটা কমে এলেও সংঘাতের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান এখনো হয়নি। ফলে দেশটিতে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে বড় ধরনের সংঘাত ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আঞ্চলিক সংঘাতেও হুতিদের সম্পৃক্ততা বেড়ে যায়। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তারা ইসরায়েল ও লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে আবারও লড়াই তীব্র হলে দীর্ঘদিনের অস্থিতিশীলতা আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মোখা ও ধুবাব এলাকায় সর্বশেষ বিমান হামলার ঘটনাও সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ
শেয়ার করুন: