বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কাছ থেকে জোরপূর্বক সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়া এবং পরে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা প্রতিরোধে সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। তবে বিলটির কয়েকটি বিধান মুসলিম শরিয়া আইনের ‘হেবা’ বা দান ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে সংসদে আপত্তি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতারা।
বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, পবিত্র কোরআনে পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বার্ধক্যে তাদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ এবং কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার না করার কথাও সেখানে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, সন্তানরা বড় বড় ভবনে বসবাস করলেও অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের সম্পত্তি দখল করে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলেন। কখনো চাপ প্রয়োগ করে সম্পত্তি নিজেদের নামে নেওয়া হয়। পরে বাবা-মায়ের জায়গা হয় ওই ভবনের ছোট একটি অংশে, আবার অনেক ক্ষেত্রে সেই সুযোগও থাকে না। শেষ পর্যন্ত তাদের বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিতে হয়।
বিলটি সংসদে উত্থাপনের জন্য আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, আইনটিতে আরও কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কয়েকটি প্রস্তাব দেন।
তার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণে অবহেলা হলে দান বাতিলের একতরফা অধিকার দাতাকে দেওয়া। পাশাপাশি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এমন বিধান যুক্ত করার কথা বলেন তিনি, যাতে সন্তান পিতা-মাতাকে অবহেলা বা নির্যাতন করলে দাতা এককভাবে রেজিস্ট্রি দলিল বাতিলের জন্য পারিবারিক আদালতে আবেদন করতে পারেন।
এ ছাড়া সন্তান যাতে বাবা-মায়ের দেওয়া সম্পত্তি তৃতীয় পক্ষের কাছে বন্ধক রেখে ঋণ নিতে না পারে এবং এর দায় বাবা-মায়ের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে সুরক্ষা দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় তার লিখে দেওয়া সম্পত্তি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়া বা তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তরের সুযোগও সীমিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত বিচারব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জেলা জজ আদালতে দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে ৬০ থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি এবং জরুরি চিকিৎসা বা আর্থিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদনের বিধান রাখারও প্রস্তাব দেন তিনি।
সংসদে উত্থাপিত বিলটির উদ্দেশ্য মূলত সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রবীণ পিতা-মাতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তবে এর সঙ্গে মুসলিম শরিয়া আইনের হেবা ব্যবস্থার সামঞ্জস্য নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা আইনটির বাস্তব প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।