হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমিয়ে ৬ টাকা, আপত্তি কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের

Sharmin Sultana Sharmin Sultana ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:১১ PM BST ২৮ বার পঠিত
হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমিয়ে ৬ টাকা, আপত্তি কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের

collected

হিমাগারে আলু সংরক্ষণের সর্বোচ্চ ভাড়া কেজিপ্রতি ৭৫ পয়সা কমিয়ে ৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। গত ৩০ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে নতুন ভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়। পরদিন কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বেসরকারি কোল্ড স্টোরেজগুলোতে আলু সংরক্ষণের সর্বোচ্চ ভাড়া প্রতি কেজি ৬ টাকা নির্ধারিত থাকবে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ কৃষি বিপণন অধিদপ্তর হিমাগারে আলু সংরক্ষণের সর্বোচ্চ ভাড়া কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করেছিল। প্রায় দেড় বছর পর সেই ভাড়া কমিয়ে ৬ টাকা করা হলো।

সরকারের এ সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির দাবি, ভাড়া কমানোর কারণে হিমাগার মালিকদের সম্ভাব্য আয় প্রায় ১৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকা কমে যাবে। এতে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং অনেক হিমাগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত ৩০ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন, বিভিন্ন অঞ্চলের আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে কৃষিসচিব সেলিম খানের সভাপতিত্বে ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়।

কৃষিসচিব সেলিম খান জানান, আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে ২৫ জেলার জেলা প্রশাসকদের নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছিল। কমিটি কেজিপ্রতি ৫ টাকা ৫০ পয়সা ভাড়া নির্ধারণের সুপারিশ করে। পরে কৃষকদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কেজিপ্রতি ৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হিমাগার মালিকেরা প্রথমে কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৩৮ পয়সা এবং পরে ৬ টাকা ১০ পয়সা ভাড়া দাবি করেছিলেন। তবে বর্তমানে কৃষকেরা লোকসান দিয়ে আলু বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।

সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে আবেদন করেছে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন। একই বিষয়ে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের কাছেও আবেদন করেছে সংগঠনটি।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের আবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে দেশে এবার উৎপাদিত আলুর একটি অংশ উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। বিপরীতে বার্ষিক চাহিদা ৮৫ থেকে ৯০ লাখ টন। উদ্বৃত্ত আলুর একটি অংশ রপ্তানি করা গেলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের চাপ কমার পাশাপাশি কৃষকেরাও তুলনামূলক ভালো দাম পেতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

এ অবস্থায় আলু রপ্তানিতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ১১তম ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড সামিট ২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার বাণিজ্য, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, খাদ্যনিরাপত্তা ও সমবায় উন্নয়নমন্ত্রী ওয়াসান্থা সামারাসিংহের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে আলু ও পেঁয়াজ আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে শ্রীলঙ্কা। শিগগিরই দেশটির বাজারে আলু রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাই করতে বাংলাদেশ থেকে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: