collected
দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সমুদ্র শহর কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাঁচটি প্রকল্পের সমন্বয়ে প্রায় ১ হাজার ৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ব্রডগেজ বা ডুয়েলগেজ রেলপথে ট্রেন চলাচল করতে পারবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ পথে নতুন করে ২০টি আন্তঃনগর ট্রেনসহ প্রায় ২৫০টি ট্রেন পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন শেষ করে ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আধুনিক বিশ্বে ব্রডগেজ রেলপথের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে দেশের পুরো রেলপথ ব্রডগেজ বা ডুয়েলগেজে রূপান্তরের আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী পাঁচটি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি রেলের সক্ষমতা বাড়বে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সহজে কক্সবাজারে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিদেশি পর্যটকরাও রেলপথে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভ্রমণ করতে পারবেন।
রফিকুল ইসলাম আরও জানান, চট্টগ্রাম-দোহাজারী ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথে ১২ হাজার কোটি টাকা, লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথে ১৫ হাজার কোটি টাকা, আখাউড়া-টঙ্গী রেলপথে ১৪ হাজার কোটি টাকা এবং শান্তাহার-বগুড়া রেলপথের উন্নয়নে ৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের রেল নেটওয়ার্ক আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পাশাপাশি যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি মালবাহী ও কনটেইনার ট্রেন চলাচলও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। রফিকুল ইসলামের দাবি, মালবাহী ও কনটেইনার ট্রেন চলাচল প্রায় ১০ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ১৭ জুন সচিবালয়ে রেলওয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় রেলওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পঞ্চগড়-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ চালু হলে দেশের রেল নেটওয়ার্ক আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
পর্যটন খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই যাত্রায় দেশের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত উপভোগের সুযোগ তৈরি হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে।
এ ছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য দ্রুত ও কম খরচে দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে এবং দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদিত লবণ ও শুঁটকি দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। ফলে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনেও রেলওয়ের ভূমিকা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।