‘দার-ই-নাজাত’-এর জামিলকে নিয়ে ক্ষুব্ধ দর্শক, প্রশংসায় দুরে ফিশান

Pinky Saha Pinky Saha ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৫৩ PM BST ৩১ বার পঠিত
‘দার-ই-নাজাত’-এর জামিলকে নিয়ে ক্ষুব্ধ দর্শক, প্রশংসায় দুরে ফিশান

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘দার-ই-নাজাত’ নিয়ে দর্শকের মধ্যে চলছে তুমুল আলোচনা। শনিবার প্রচারিত সিরিয়ালটির ১৩তম পর্বে গল্পে আসে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। আর এই পর্ব প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামিল চরিত্রের আচরণ ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক দর্শক। একই সঙ্গে জারিয়াব চরিত্রে দুরে ফিশান সেলিমের অভিনয়ও প্রশংসিত হয়েছে।

ধারাবাহিকটিতে জামিল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নামির নওয়াজ খান। আর জারিয়াব চরিত্রে দেখা গেছে দুরে ফিশান সেলিমকে।

গল্প অনুযায়ী, জামিল ও জারিয়াবের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। জারিয়াব ছিলেন জামিলের শৈশবের ভালোবাসার মানুষ। কয়েক বছর ধরে তাঁদের সম্পর্ক চলার পাশাপাশি একপর্যায়ে তাঁরা একসঙ্গে বসবাসও করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কের ইতি টেনে অন্য এক নারীকে বিয়ে করেন জামিল। ওই নারী ছিলেন একটি মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত এবং জামিলের কাছে আগে পরিচিতও ছিলেন না। সবচেয়ে বড় বিষয়, জারিয়াবকে বিয়ের সিদ্ধান্তের কথাও জানাননি তিনি।

সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার কারণ জানতে একপর্যায়ে জামিলের বাড়িতে হাজির হন জারিয়াব। সেখানে দুজনের কথোপকথনের দৃশ্যটি দর্শকের বিশেষ মনোযোগ কেড়েছে। আবেগপ্রবণ জারিয়াব জানতে চান, কেন হঠাৎ করে তাঁদের দীর্ঘ সম্পর্ক শেষ করে দেওয়া হলো।

জবাবে জামিল বলেন, জারিয়াব তাঁর জন্য যোগ্য নন। তাঁদের একসঙ্গে কাটানো সময়কে নিজের জীবনের ‘অজ্ঞতার সময়’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। জামিলের ভাষ্য, অতীতের সেই জীবন থেকে তিনি বেরিয়ে এসেছেন এবং সামনে এগিয়ে যেতে এমন একজন জীবনসঙ্গী চেয়েছেন, যিনি তাঁকে ধর্মের পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবেন।

জামিল আরও দাবি করেন, তাঁর প্রয়োজন এমন একজন স্ত্রী, যিনি ধার্মিক, পবিত্র ও নিষ্পাপ। নিজের নতুন স্ত্রীকে পাওয়াকে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে তওবার বিনিময়ে পাওয়া পুরস্কার হিসেবেও দেখেন।

তবে জামিলের বক্তব্য মেনে নিতে পারেননি জারিয়াব। তিনি প্রশ্ন তোলেন—তওবা করার অধিকার কি শুধু পুরুষের? কিন্তু সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে জামিল একজন ধার্মিক স্ত্রীর কী কী গুণ থাকা উচিত, তা ব্যাখ্যা করতে থাকেন। একই সঙ্গে জারিয়াবের মধ্যে এসব গুণ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এই দৃশ্যটিই দর্শকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই জামিলের আচরণকে আত্মঅহংকার ও দ্বিচারিতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, ধর্মীয় মূল্যবোধের কথা বললেও নিজের অতীত আচরণ এবং নারীর প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে।

জামিলের চরিত্র নিয়ে একজন দর্শক মন্তব্য করেছেন, নিজের ক্ষেত্রে যা খুশি করা হলেও স্ত্রীকে সব সময় নেক, ভদ্র ও পর্দানশিন হতে হবে—এমন মানসিকতার প্রতিফলন চরিত্রটির মধ্যে দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এই আচরণকে ‘ভণ্ডামি’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

আরেকদল দর্শকের মতে, ধর্মীয় পথে ফিরে আসার পরও মানুষের বিনয় ও আত্মসমালোচনার জায়গাটি হারিয়ে ফেলা উচিত নয়। তাঁদের ধারণা, ‘দার-ই-নাজাত’-এর এই পর্বে গুরুত্বপূর্ণ একটি সামাজিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

জামিলের মতো আত্মকেন্দ্রিক মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে থাকা নারীদের জন্য চরিত্রটির আচরণ সতর্কবার্তা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। এমনকি একজন দর্শক জামিলকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপদের সংকেত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে জারিয়াব চরিত্রে দুরে ফিশান সেলিমের অভিনয় প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর একজন হৃদয়ভাঙা নারীর আবেগ, কষ্ট ও হতাশা তিনি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা দর্শকের মন ছুঁয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

ধারাবাহিকের গল্পে জারিয়াবের আত্মত্যাগের বিষয়টিও দর্শকের আলোচনায় এসেছে। একপর্যায়ে জামিল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ব্যর্থ হন। তখন তাঁকে সান্ত্বনা দিতে জারিয়াব নিজের হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। সেই জারিয়াবকেই পরবর্তী সময়ে ধর্ম ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে প্রত্যাখ্যান করেন জামিল। ফলে তাঁর সিদ্ধান্তকে আরও বেশি নির্মম বলে মনে করছেন দর্শকেরা।

সাকিব খান পরিচালিত ‘দার-ই-নাজাত’ ধারাবাহিকটিতে নামির নওয়াজ খান ও দুরে ফিশান সেলিম ছাড়াও অভিনয় করেছেন শেহেরিয়ার মুনাওয়ার, রোমাইসা খান, সাহার হাশমি, সানিয়া সাঈদ, সাবা হামিদ ও নাদিয়া আফগান। ১৩তম পর্বের পর জামিল-জারিয়াবের সম্পর্কের পরিণতি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ এখন আরও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT Youth Soft-Tech International Ltd.
শেয়ার করুন: