Picture : Internet
দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্যের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাক্ষরতার হার ৭৭ শতাংশের বেশি হওয়া দেশের জন্য আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি। তবে এখনো বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু, ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও অনগ্রসর প্রাপ্তবয়স্কদের একটি বড় অংশ মৌলিক শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার সুযোগ থেকে বাইরে রয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীকে দ্রুত সাক্ষর ও দক্ষ করে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।
বর্তমান বাস্তবতায় সাক্ষরতাকে শুধু নাম স্বাক্ষর বা বর্ণমালা চেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার ওপর গুরুত্ব দেন ববি হাজ্জাজ। ইউনেস্কোর এ বছরের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘লিটারেসি ফর পিপল, দ্য প্ল্যানেট অ্যান্ড প্রসপারিটি’ সামনে রেখে সাক্ষরতাকে কর্মসংস্থান, জীবনদক্ষতা, ডিজিটাল সক্ষমতা এবং পরিবেশ সচেতনতার সঙ্গে যুক্ত করার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে নিবন্ধিত ৪ হাজার ৩১২ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জন ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্কের (বিএনকিউএফ) মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
উত্তীর্ণদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন, অর্থাৎ ৯২ দশমিক ৪৭ শতাংশ, স্থায়ী চাকরি, শোভন কাজে শিক্ষানবীশ বা নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত মানুষকে স্বাবলম্বী করা এবং দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করার লক্ষ্যে ‘ইচ ওয়ান টিচ ওয়ান’ মডেলের আলোকে ‘অ্যাডাল্ট অ্যান্ড ফাংশনাল লিটারেসি ফর অ্যাবিলিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (আলফা)’ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চতুর্থ শ্রেণিতে চালু হতে যাওয়া স্পোর্টস ও কালচারাল এডুকেশন বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ের একটি পাঠ্যবই চতুর্থ শ্রেণিতে দেওয়া হবে। ২০২৮ সালে বর্তমান শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলে পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম কার্যকর হবে। আপাতত সহকারী শিক্ষকদের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের পিটিআই ও পিটিসির মাধ্যমে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধান শিক্ষকদের শূন্য পদ ও নিয়োগ প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ জানান, প্রায় ৩৫ হাজার ৪০০ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য অথবা আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগ ও পদায়ন নিশ্চিত করতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণে সাক্ষর, প্রযুক্তি-সচেতন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।