সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান ও ড্রোন হামলায় শিশু ও চিকিৎসাকর্মীসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় এসব হামলা চালানো হয় বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় কফর রেমান শহরের একটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। এতে দুই শিশুসহ ১১ জন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হন। একই সময়ে নাবাতিহ প্রদেশের ওই এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় একজন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন। এর আগে রোববার নাবাতিহ জেলার আরব সালিম শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ২০ জন আহত হন।
অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের দেইর আল-জাহরানি এলাকায় একটি ভবনে হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলের দাবি, হামলার আগে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাদের ভাষ্য, ভবনটি হিজবুল্লাহর একটি স্থাপনার কাছে অবস্থিত ছিল এবং সেখান থেকে বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত জুনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি হলেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রয়েছে। চুক্তির আওতায় দক্ষিণাঞ্চলে একটি ‘পাইলট জোন’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগ নেবে এবং ইসরাইল ধীরে ধীরে সেনা প্রত্যাহার করবে—এমন পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
তবে ইসরাইল এখনো দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি গ্রাম দখলে রেখেছে এবং আরও সেনা প্রত্যাহারে অনাগ্রহী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলা জোরদার হওয়ায় দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংঘাত কমার পর যারা নিজেদের বাড়িতে ফিরছিলেন এবং ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ শুরু করেছিলেন, তাদের মধ্যেও উদ্বেগ বেড়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, মার্চের শুরুতে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে ৪ হাজার ৩৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ১২ হাজার ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একই সময়ে অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসাকর্মীদের লক্ষ্য করে ১৭৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় ১৩৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।