অ্যাঞ্জেলা মেরকেল
জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি আনহাল্টের নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) বড় জয় পাওয়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল। নিজের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) সদস্য হিসেবে এ ফলাফল দেখে তার ‘হৃদয় রক্তাক্ত হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
গত মঙ্গলবার কোলনে এক অনুষ্ঠানে মেরকেল বলেন, স্যাক্সনি আনহাল্টের নির্বাচনের ফলাফল ‘হতবাক করার মতো’। এএফডির উত্থানকে জার্মান ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এএফডি ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে। বিপরীতে সিডিইউ পেয়েছে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। ২০২১ সালের নির্বাচনে এএফডি যেখানে ২০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, এবার তা দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়েছে। অন্যদিকে, ২০২১ সালে সিডিইউর ভোট ছিল ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ, যা এবার অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।
এএফডির সাফল্যের পর রাজ্যটিতে অভিবাসন ও শরণার্থী নীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দলটি ক্ষমতায় গেলে অভিবাসন নীতিতে কঠোর পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এমনকি ক্ষমতায় যাওয়ার প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও দলটির কর্মসূচিতে রয়েছে।
রাজ্যের রাজধানী ম্যাগডেবার্গে বসবাসকারী সিরীয় পরিবারের সদস্য মরিয়ম এএফডির উত্থানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার আশঙ্কা, দলটি ক্ষমতায় এলে অভিবাসী পরিবারগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
তবে এএফডিকে ভোট দেওয়া ৫৪ বছর বয়সি ডোরিন বলেন, দীর্ঘদিনের হতাশা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের জন্য জার্মানির সহায়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, ৮৮ বছর বয়সি জুডিথ এএফডির উত্থানে গভীরভাবে হতাশ। ১৯৪৫ সালে সিলেশিয়া থেকে পালিয়ে আসা এই নারী শরণার্থীদের বিষয়ে এএফডির অবস্থানে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবার বামপন্থি দল ডি লিংকেকে ভোট দিয়েছেন।
২১ বছর বয়সি এরিকও এএফডির উত্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন। জার্মান মা ও গিনির বাবার সন্তান এরিকের আশঙ্কা, কট্টর ডানপন্থিদের উত্থান তার মতো কৃষ্ণাঙ্গ জার্মানদের জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মেরকেলের মন্তব্যের মধ্য দিয়ে জার্মান রাজনীতিতে এএফডির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং অভিবাসননীতি ঘিরে বিভাজন নতুন করে সামনে এসেছে।