ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি মার্কিন জাহাজ ও জর্ডানে থাকা একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। হামলায় প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ট্র্যাকিং প্রযুক্তিসম্পন্ন নতুন ‘ধ্বংসকারী-বিরোধী’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) টাইমস নাউয়ের প্রতিবেদনে দ্য টেলিগ্রাফ ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নবনিযুক্ত সচিব মহসিন রেজাই দাবি করেছেন, বিশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পর মার্কিন বাহিনীকে পিছু হটতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তনের পর ইরান সামরিক কৌশলকে ‘প্রতিরোধমূলক’ অবস্থান থেকে ‘সক্রিয় প্রতিরোধ’ ব্যবস্থায় নিয়ে গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রে অপটিক্যাল সেন্সর ও ক্যামেরা রয়েছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে জিপিএস ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে সেন্টকম হামলার কথা স্বীকার করলেও জানিয়েছে, এতে মার্কিন বাহিনীর বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝআকাশেই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
খারগ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার মার্কিন হামলায় ধ্বংস হওয়ার পর আইআরজিসি এই পাল্টা হামলা চালায় বলে ইরানি পক্ষের দাবি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আত্মরক্ষার আইনগত অধিকার থেকেই সশস্ত্র বাহিনী এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
এদিকে বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং তেলবাহী ট্যাঙ্কারেও হামলার হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি। একই সঙ্গে নাবিকদের ওই এলাকা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি তৈরিতে ইরান চীন বা রাশিয়ার কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন নৌঘাঁটি বা জাহাজে ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে তেহরানকে আরও তেলবাহী জাহাজ হারানোর পরিণতি মোকাবিলা করতে হবে।