ছবি: সংগৃহীত
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে হরমোজগান প্রদেশের সিরিক, মিনাব ও কেশম দ্বীপে এসব শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। কর্মকর্তাদের ধারণা, বিস্ফোরণের শব্দগুলো সমুদ্রের দিক থেকে এসেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, সিরিকের কয়েকটি এলাকায় ‘শত্রুপক্ষের নিক্ষেপ করা প্রজেক্টাইল’ আঘাত হেনেছে। তবে এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিরিক, মিনাব ও কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে। এর এক দিন আগেও হরমোজগান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক এলাকায় সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল বলে জানিয়েছিল ফার্স নিউজ।
আইআরএনএ বুধবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালি থেকেও বিস্ফোরণের খবর দেয়। জাস্ক কাউন্টিতে থাকা সংস্থাটির প্রতিবেদকের বরাত দিয়ে বলা হয়, বিস্ফোরণের আগে জলপথে কয়েক দফা গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে কেশম দ্বীপে শোনা বিস্ফোরণের শব্দ সমুদ্র থেকে এসেছে নাকি দ্বীপের ভেতরে কোনো ঘটনা ঘটেছে, তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানায় ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
সর্বশেষ ঘটনাগুলোতে আবারও আলোচনায় এসেছে সিরিক এলাকা। সেপ্টেম্বরের শুরুতেও দক্ষিণ ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় সিরিকসহ কয়েকটি এলাকায় হামলার খবর পাওয়া যায়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, মার্কিন বাহিনী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, নৌসম্পদ, মাইন স্থাপন ও যোগাযোগব্যবস্থাও ছিল বলে জানিয়েছিল সেন্টকম।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সিরিক, বান্দার আব্বাস, আহভাজ ও আগাজরিতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে সর্বশেষ বিস্ফোরণগুলোতে কেউ হতাহত হয়েছে কি না বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।