ছবি: সংগৃহীত
২০০৩ সালে অ্যান্ডি রডিকের ইউএস ওপেন জয়ের পর থেকে গ্র্যান্ড স্লামে ছেলেদের এককে ঘরের কোনো মার্কিন খেলোয়াড়ের হাতে শিরোপা ওঠেনি। দীর্ঘ ২৩ বছর পর সেই অপেক্ষা শেষ করার সুযোগ এসেছে বেন শেলটনের সামনে। তবে তাঁর সামনে ফাইনালে দাঁড়াবেন জার্মানির শীর্ষ বাছাই আলেক্সান্দার জভেরেভ, যিনি আগেই ঘোষণা দিয়েছেন—‘আমেরিকান স্বপ্ন’ সত্যি হতে দেবেন না।
ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে রাশিয়ার কারেন খাচানভকে ৬–৩, ৭–৬ (৯–৭), ৭–৬ (৯–৬) গেমে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন জভেরেভ। টানা তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে উঠে এবার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জয়ের সুযোগ তাঁর সামনে। ছয় বছর আগে ইউএস ওপেনের ফাইনালে ডমিনিক থিয়েমের কাছে হারের স্মৃতিও তাঁকে বাড়তি প্রেরণা দিচ্ছে।
অন্যদিকে অল-আমেরিকান সেমিফাইনালে বন্ধু ও ‘বড় ভাই’ ফ্রান্সিস তিয়াফোকে ৪–৬, ৬–৩, ৬–৩, ৭–৫ গেমে হারিয়ে প্রথমবারের মতো গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে উঠেছেন শেলটন। ৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিটের লড়াইয়ে জয় পাওয়া শেলটন এখন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শিরোপার সামনে।
এই সেমিফাইনালটি ছিল ঐতিহাসিকও। ইউএস ওপেনের পুরুষ এককের সেমিফাইনালে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন দুই কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান খেলোয়াড়। আর্থার অ্যাশের পর ৫৪ বছর পর কোনো কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান পুরুষ ইউএস ওপেনের ফাইনালে উঠলেন। ১৯৭২ সালের ফাইনালে অ্যাশ ইলি নাসতাসের কাছে হেরেছিলেন।
গ্র্যান্ড স্লামে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের ইতিহাসেও শেলটনের সামনে বড় সুযোগ। ১৯৬৮ সালে ইউএস ওপেন জিতে আর্থার অ্যাশ প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ হিসেবে গ্র্যান্ড স্লাম জয় করেন। ১৯৮৩ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে সেই তালিকায় যোগ দেন ফরাসি ইয়ানিক নোয়া। জভেরেভকে হারাতে পারলে শেলটন হবেন ইতিহাসের তৃতীয় কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী—আর সেই জয় হবে আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামেই।
অন্যদিকে জভেরেভ জানেন, এই ম্যাচ শুধু একটি শিরোপার লড়াই নয়; এটি হবে স্বাগতিক দর্শকদের দীর্ঘ অপেক্ষা বনাম তাঁর নিজের গ্র্যান্ড স্লাম-স্বপ্নের লড়াই। তাই ফাইনালের আগে জার্মান তারকার স্পষ্ট বার্তা—আমেরিকান স্বপ্ন পূরণ হতে দিতে চান না তিনি।