রাশিয়ার নতুন দূরপাল্লার জেটচালিত ড্রোন ইউক্রেনের দুর্বল হয়ে পড়া আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কয়েক কিলোমিটার উচ্চতায় উড়তে সক্ষম এসব ড্রোন ঘণ্টায় ৪০০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে ছুটতে পারে, যা প্রচলিত ড্রোনের তুলনায় অনেক বেশি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় এসব ড্রোন দিয়ে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত কয়েক দিনের ভয়াবহ আকাশ পরিস্থিতিকে রাশিয়ার নতুন কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ড্রোনগুলোতে চীনে তৈরি বিমানের মতো ছোট জেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উচ্চতায় উড়তে পারে এবং সর্বোচ্চ ৯০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম। আকারেও এগুলো প্রচলিত ড্রোনের তুলনায় বড়—দৈর্ঘ্য প্রায় ছয় মিটার এবং ডানার বিস্তার প্রায় সাড়ে পাঁচ মিটার।
ইউক্রেনের সামরিক বিশেষজ্ঞ সের্গি জাগুরেটসের মতে, এসব ড্রোনের গতি ও উচ্চতা ইউক্রেনের বর্তমান ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য বড় সমস্যা তৈরি করছে। আকাশ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে নতুন ড্রোনগুলো প্রচলিত ড্রোনের চেয়ে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।
ধারণা করা হচ্ছে, আগস্টে রাশিয়া প্রায় ২ হাজার ৮০০টি জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করেছে। জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ এবং জুনে ছিল কয়েকশ। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এসব নতুন ড্রোনের প্রায় ৬০ শতাংশ ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে। বিপরীতে ধীরগতির ও কম উচ্চতায় উড়া প্রচলিত ড্রোন ধ্বংসের হার ৯০ শতাংশের বেশি।
নতুন ধরনের ড্রোন হামলা এমন সময়ে বাড়ছে, যখন রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণেও কিয়েভ চাপে রয়েছে। শুক্রবার একটি জেটচালিত ড্রোন কিয়েভের ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সদর দফতরে আঘাত হানে।
দফায় দফায় হামলার কারণে কিয়েভের স্বাভাবিক জীবনও ব্যাহত হচ্ছে। বিমান হামলার সতর্ক সংকেত জারি হলে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। মেট্রোরেল চলাচল সীমিত করা হয় এবং সড়কে তৈরি হয় ব্যাপক যানজট। ফলে রাশিয়ার নতুন জেটচালিত ড্রোন ইউক্রেনের জন্য শুধু সামরিক নয়, নগরজীবনের জন্যও নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।