ছবি: সংগৃহীত
২০১৫ সালের সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন’-এ যুদ্ধের জন্য রোবট বাহিনীর ব্যবহার দেখানো হয়েছিল। এক দশকের বেশি সময় পর বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রেও রোবটের ব্যবহার আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইউক্রেন।
দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ শনিবার জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের প্রাণহানি কমাতে নতুন একটি ‘আর্মি অব রোবটস’ বা রোবট বাহিনী গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফেদোরভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পরিকল্পনার কথা জানান।
‘আর্মি অব ড্রোনস’-এর পর রোবট বাহিনী
ফেদোরভের নেতৃত্বে ২০২২ সালে শুরু হয়েছিল ‘আর্মি অব ড্রোনস’ প্রকল্প। এবার একই ধরনের ধারণা থেকে স্থলভিত্তিক রোবট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ফেদোরভ জানিয়েছেন, ‘আর্মি অব রোবটস’ কোনো একটি প্রতিষ্ঠান নয়। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পকে নিয়ে একটি বড় ব্যবস্থা হিসেবে এটি গড়ে তোলা হবে।
সরকার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করবে এবং নতুন প্রযুক্তি তৈরিতে সহায়তা করবে। এরপর এসব প্রযুক্তি সেনাবাহিনীর সঙ্গে পরীক্ষা করা হবে। যুদ্ধক্ষেত্রে যেসব প্রযুক্তি কার্যকর প্রমাণিত হবে, সেগুলোর ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে।
যুদ্ধ, নজরদারি ও উদ্ধারকাজে রোবট
‘আর্মি অব রোবটস’-এর ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ক্ষেত্রের দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে।
ভবিষ্যতে এমন রোবট তৈরির লক্ষ্য রয়েছে, যেগুলো যুদ্ধ, নজরদারি, উদ্ধারকাজ ও রসদ সরবরাহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা যাবে। সামরিক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট প্রযুক্তির উন্নয়নেও বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ফেদোরভের মতে, এসব প্রযুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হলো যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের ঝুঁকি ও প্রাণহানি কমানো।
কী কী কাজ করবে রোবট?
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোবট দিয়ে আহত সেনাদের উদ্ধার, গোলাবারুদ ও অন্যান্য রসদ পৌঁছে দেওয়া, মাইন পাতা ও সরানো, শত্রুর অবস্থান নজরদারি এবং সামরিক অবস্থানে হামলার মতো কাজ করা হতে পারে।
ফেদোরভ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বিভিন্ন ধরনের রোবটকে যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করতে দেখা গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মানুষ দূর থেকে এসব রোবট নিয়ন্ত্রণ করবে। এলাকা নিরাপদ হওয়ার পর সেখানে সেনারা প্রবেশ করবে।
ফেদোরভ আরও জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে হিউম্যানয়েড রোবট দিয়ে শত্রু সেনার ওপর হামলা চালানোর লক্ষ্য রয়েছে। এক বছরের মধ্যে কোনো পদাতিক সেনা ছাড়াই শত্রুর অবস্থানে হামলা চালানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইউক্রেনে বাড়ছে চালকবিহীন স্থলযানের ব্যবহার
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেন ইতোমধ্যে চালকবিহীন স্থলযান বা ইউজিভি (UGV)-এর ব্যবহার বাড়িয়েছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে ইউজিভি ব্যবহার করে পরিচালিত মিশনের সংখ্যা ৩ দশমিক ৩ গুণ বেড়েছে। শুধু আগস্ট মাসেই ইউজিভির মাধ্যমে সম্মুখ সমরে ২৫ হাজারের বেশি রসদ সরবরাহ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত ২০২৬ সালে ইউজিভির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার রসদ সরবরাহ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ‘হায়েনা’ নামে পরিচিত চার চাকার চালকবিহীন যানসহ বিভিন্ন ধরনের রোবট তৈরি করছে। এসব রোবট বিস্ফোরক বহন করে রুশ প্রতিরক্ষা অবস্থানের দিকে এগিয়ে যেতে পারে এবং বাঙ্কারে হামলা বা অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ব্যবহার করা হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একই ধরনের একটি রোবট রুশ যুদ্ধবন্দীদের আটক করার কাজেও ব্যবহার করা হয়েছে।