জাপানি রাসায়নিক আমদানিতে চীনের ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি

Pinky Saha Pinky Saha ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৩৪ PM BST ১৫ বার পঠিত
জাপানি রাসায়নিক আমদানিতে চীনের ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি

ছবি: সংগৃহীত

সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ডাইক্লোরোসিলেন আমদানিতে জাপানের ওপর অতিরিক্ত ‘নিরাপত্তা জামানত’ আরোপ করেছে চীন। জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারদরের তুলনায় পরিকল্পিতভাবে কম দামে পণ্য বিক্রি করে চীনের স্থানীয় শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার থেকে নতুন এই বাণিজ্যিক ব্যবস্থা কার্যকর করেছে বেইজিং।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাপান থেকে আমদানি করা ডাইক্লোরোসিলেনের বিষয়ে গত জানুয়ারি থেকে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত চালানো হচ্ছিল। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জাপানি পণ্য কম দামে বিক্রির মাধ্যমে চীনের স্থানীয় ডাইক্লোরোসিলেন শিল্পের ওপর উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে দেশটি।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT রবি আজিয়াটা লিমিটেড

চীনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশটির শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত হারে অতিরিক্ত অর্থ ‘নিরাপত্তা জামানত’ হিসেবে জমা দিতে হবে। অধিকাংশ জাপানি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই জামানতের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৯ দশমিক ২ শতাংশ।

তবে টোকিওভিত্তিক ডেনাল সিলেনের ক্ষেত্রে হার কিছুটা কমিয়ে ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। জাপানের অন্যতম শীর্ষ রাসায়নিক প্রতিষ্ঠান শিন-এৎসু কেমিক্যাল জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ডাইক্লোরোসিলেন-সংক্রান্ত ব্যবসা তাদের সামগ্রিক ব্যবসার খুবই ছোট একটি অংশ হওয়ায় নতুন এই ব্যবস্থার বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।

ডাইক্লোরোসিলেন সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাঁচামাল। বিশ্বব্যাপী চিপ উৎপাদন খাতে জাপান এই রাসায়নিকের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। ফলে জাপানি সরবরাহকারীদের ওপর চীনের এই অতিরিক্ত বাণিজ্যিক কড়াকড়ি দুই দেশের রাসায়নিক ও সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

চীনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান সরকার। দেশটির মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা বলেছেন, টোকিও এই বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানাবে। জাপান এরই মধ্যে চীনের কাছে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে বলেও জানান তিনি।

চীন-জাপান সম্পর্কের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন এই বাণিজ্যিক ব্যবস্থা কার্যকর হলো। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানি নেতৃত্বের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্পের কাঁচামালের ওপর চীনের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে এবং অতিরিক্ত জামানতের এই ব্যবস্থা কতদিন বহাল থাকবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি চীন। ফলে বিষয়টি নিয়ে জাপান ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও বাড়ে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ
শেয়ার করুন: