বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ‘জিরো-কস্ট’ ব্যবস্থায় মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে দেশটি। এ ব্যবস্থায় কর্মীদের বিমানভাড়া ও অন্যান্য অভিবাসন-সংক্রান্ত খরচ বহন করতে হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
তবে আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় নেওয়া হবে—সম্প্রতি বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে আসা এই সংখ্যা এখনো মালয়েশিয়ার অনুমোদিত চূড়ান্ত নিয়োগ কোটা হিসেবে নিশ্চিত হয়নি। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশটির বিভিন্ন শিল্প ও খাতের প্রকৃত শ্রমিক চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ হাজার কর্মীর জিরো-কস্ট উদ্যোগের প্রথম ব্যাচকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি সরাসরি নির্বাচন করেছে এবং আরও ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজের সুযোগ দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ কর্মী নেওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। তবে এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ও ঐক্য সরকারের মুখপাত্র ফাহমি ফাদজিল জানান, দুই লাখ কর্মী নেওয়ার বক্তব্যটি বাংলাদেশের একজন জুনিয়র মন্ত্রীর বক্তব্য এবং এটি বাংলাদেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের প্রতিনিধিত্ব করে না। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীও বিদেশি কর্মী নিয়োগে প্রকৃত শ্রমিক চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ হওয়ার পর থেকেই শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় বাংলাদেশ সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, সরকারি তদারকি এবং অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়া শিল্প ও খাতভিত্তিক শ্রমিকের প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে বিদেশি কর্মী নিয়োগ সামঞ্জস্য করার ওপর জোর দিচ্ছে।
এদিকে, সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে সম্ভাব্য কর্মীদের কোনো ধরনের অর্থ না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সরকার। মেডিকেল পরীক্ষা বা পাসপোর্ট জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। ফলে দালাল বা অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে টাকা না দিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ১০ হাজার কর্মীর জিরো-কস্ট উদ্যোগকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সবচেয়ে স্পষ্ট অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর বাইরে আরও কতজন কর্মী নেওয়া হবে এবং বড় পরিসরে নিয়োগ কবে শুরু হবে, তা নির্ভর করবে মালয়েশিয়ার শ্রমিক চাহিদা, সরকারি অনুমোদন, কোটা ও দেশটির অভিবাসন নীতির ওপর।